বিশ্বের দশটি প্রধান টি‑টোয়েন্টি লিগে মোট ১,১৮১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র আটটি ম্যাচে সমতা রয়ে গেছে। এই ডেটা থেকে দেখা যায়, অধিকাংশ ম্যাচে ফলাফল স্পষ্ট, তবে কিছু লিগে নিকটতম পার্থক্য ও উচ্চ স্কোরের চ্যালেঞ্জ বেশি দেখা যায়।
টুইটি ফরম্যাটের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতি একক সংজ্ঞা দেয়া কঠিন করে তুলেছে। কেউ বলবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানে দলগুলোর শক্তির সমতা, অন্যরা বলবে ক্রিকেটের মান, কৌশল ও আন্তর্জাতিক তারকার উপস্থিতি। বাস্তবে, যখন ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই সমানভাবে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে, তখনই প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে ওঠে।
২০২৩ সালের শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২০.২৮ ছিল, যা সব টি‑টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে বোলিং স্ট্রাইক রেট ১৮.৮, যা বোলারদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নির্দেশ করে। এ ধরনের পরিসংখ্যান দেখায় যে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য না থাকলে লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হ্রাস পায়।
প্রথম ও দ্বিতীয় ইনিংসের রান পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রাত্রিকালীন ম্যাচে শিশিরের প্রভাবের কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া সহজ হয়ে যায়, ফলে দুই ইনিংসের পার্থক্য যত কম হবে, ম্যাচ ততই সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ধরা হয়।
২০২২‑২৩ মৌসুমে বি.বি.এল থেকে শুরু করে দশটি লিগে মোট ১,১৮১টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৮টি টায় হয়। একই সময়ে ৬৩টি ম্যাচ পাঁচ রান বা তার কম ব্যবধানে শেষ হয়েছে, যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদাহরণ।
গত তিন মৌসুমে আইপিএল ১৫টি ম্যাচে পাঁচ রান বা কম ব্যবধানে সমাপ্ত হয়েছে, যেখানে দ্য হান্ড্রেডে ১০টি এবং পিএসএল-এ ৮টি এ ধরনের ম্যাচ হয়েছে। তবে অনুপাতের দিক থেকে দ্য হান্ড্রেড শীর্ষে, যেখানে ১০.২ শতাংশ ম্যাচ পাঁচ রান বা কম ব্যবধানে শেষ হয়েছে, তারপরে পিএসএল ৮.০৮ শতাংশ এবং আইপিএল ৬.৯৪ শতাংশ।
উচ্চ স্কোরের তাড়া সম্পর্কেও আকর্ষণীয় তথ্য পাওয়া যায়। ১৮০ রান বা তার বেশি তাড়া করে জয়লাভের ঘটনা মোট ৩৯ বার ঘটেছে, যার মধ্যে ১৫ বার আইপিএলে, বি.বি.এলে চার বার, এমএলএসে আট বার এবং পিএসএলে পাঁচ বার। এই সংখ্যা দেখায় যে বড় স্কোরের চ্যালেঞ্জ কিছু লিগে বেশি প্রচলিত।
মার্চ ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪০ রান বা কম রক্ষা করে জয়লাভের সংখ্যা মাত্র সাতবার, যা মোট ম্যাচের তুলনায় কম। দ্য হান্ড্রেডে এই ধরনের ম্যাচের হার ১০.২ শতাংশ, বি.বি.এলে ৩.৬ শতাংশ, আর পিএসএলে কোনো উদাহরণ নেই। এই পরিসংখ্যান নির্দেশ করে যে রক্ষা করা স্কোরের মাত্রা লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ফলাফলে প্রভাব ফেলে।
সারসংক্ষেপে, টি‑টোয়েন্টি ফরম্যাটের দ্রুত পরিবর্তনশীলতা, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য, ইনিংসের রান পার্থক্য এবং উচ্চ স্কোরের তাড়া—all এই উপাদানগুলোই লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতে এই সূচকগুলো পর্যবেক্ষণ করলে কোন লিগ সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তা স্পষ্ট হবে।



