28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিনিয়াপোলিসে ICE কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুডের মৃত্যু, দেশব্যাপী প্রতিবাদে হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী

মিনিয়াপোলিসে ICE কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুডের মৃত্যু, দেশব্যাপী প্রতিবাদে হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী

মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড, অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন। ঘটনাটি বুধবার সন্ধ্যায় ঘটেছে, যখন গুডের গাড়ি একটি পুলিশ গাড়ির সামনে থেমে যায়। গুলির পর গুড গাড়ির ভিতরে গুলি পায় এবং তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) গুলির কারণকে আত্মরক্ষার দাবি করে। বিভাগ অনুযায়ী, গুডের গাড়ি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে গিয়ে হুমকি সৃষ্টি করেছিল এবং অন্য এক কর্মকর্তা গাড়ির দরজার কাছে গিয়ে চালককে বের হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী গুলির সময় গাড়ি চালকের দিকে অগ্রসর ছিল।

গুডের মৃত্যুর পর শহরের রাস্তায় বিশাল প্রতিবাদ শুরু হয়। শীতল ও ঝড়ো আবহাওয়া সত্ত্বেও, কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ICE-কে লক্ষ্য করে স্লোগান দেয়। প্রতিবাদকারীরা রেনে গুডের নাম উল্লেখ করে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করে।

মিনিয়াপোলিসের কেন্দ্রীয় এলাকায় আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যশিল্পীদের একটি দল নেতৃত্বে মিছিল চালায়। তারা ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীতের মাধ্যমে গুডের স্মরণে একত্রিত হয় এবং গুলিবিদ্ধ গাড়ির দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলের শেষে অংশগ্রহণকারীরা গুলিবিদ্ধ গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা বজায় রাখে।

প্রতিবাদকারীরা “অ্যাবলিশ আইস”, “নো জাস্টিস, নো পিস – গেট আইস অব আওয়ার স্ট্রিটস” ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করে। এই স্লোগানগুলো ICE-র নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তীব্র বিরোধ প্রকাশ করে। স্লোগানগুলোকে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক শেয়ার করা হয় এবং দেশব্যাপী সমর্থন পায়।

একজন ৩০ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারী এলিসন মন্টগোমারি তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গুডের মৃত্যু তাকে গভীর শোক ও ক্রোধে ভাসিয়ে তুলেছে, তবে একই সঙ্গে তিনি আশার আলো দেখেন যে পরিবর্তন আসবে। তার মন্তব্য প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বিস্তৃত সমবেদনা ও প্রত্যাশা প্রতিফলিত করে।

মিনিয়াপোলিসের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ লক্ষ, এবং এই ঘটনার পর শহরের বিভিন্ন পাড়া থেকে হাজার হাজার নাগরিক রাস্তায় নেমে আসে। পুলিশ বিভাগ জানায়, মোট অংশগ্রহণকারী সংখ্যা কয়েক হাজারেরও বেশি, যা শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজ্য স্তরে ডেমোক্র্যাট নেতারা গুডের মৃত্যুকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেন এবং ICE-র নীতি পরিবর্তনের দাবি তীব্র করেন। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গুলিটিকে স্বাভাবিক আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে রক্ষা করে। এই দ্বিমত রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।

ঘটনার সময়ই মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। DHS এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপারেশন বলে ঘোষণা করে, যা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বৃহৎ মাত্রার সম্পদ ব্যবহার নির্দেশ করে।

গুডের মৃত্যুর পর আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়েছে। DHS অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালু করেছে, এবং মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসও স্বাধীন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। গুলি চালানো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য ফেডারেল ও রাজ্য আদালতে মামলার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

মিনিয়াপোলিসের পরই ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে। এক বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গাড়ি থামানোর সময় গুলি চালিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে আহত করেন। DHS এই ঘটনার বর্ণনায়ও আত্মরক্ষার যুক্তি ব্যবহার করে, যা দেশের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা সংস্থার কার্যক্রমের ওপর প্রশ্ন তুলেছে।

রেনে গুডের মৃত্যুর পর দেশব্যাপী এক হাজারেরও বেশি প্রতিবাদ ও সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে মানবাধিকার, অভিবাসন নীতি এবং পুলিশ সংস্কারের দাবি নিয়ে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সমাবেশগুলো ICE-র কার্যক্রমের ওপর জনমত গঠন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামগ্রিকভাবে, গুডের মৃত্যু এবং পরবর্তী প্রতিবাদগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা এবং মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নকে তীব্র করে তুলেছে। আইনি তদন্তের ফলাফল এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments