ঢাকা—১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটের নেতারা জানিয়েছেন, তিন মাসের আলোচনার পর সিট‑শেয়ারিং চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। জোটের মধ্যে জামায়াত‑ই‑ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি সহ আর আটটি দল অন্তর্ভুক্ত, এবং তারা ৩০০টি নির্বাচনী এলাকা নিয়ে সমঝোতা করতে চায়।
কয়েক সপ্তাহের একান্ত ও সমষ্টিগত বৈঠকের মাধ্যমে পার্থক্যগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হয়েছে। এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে বলে নেতারা আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, এবং জানুয়ারি ২০‑এর মধ্যে নামনিবন্ধন প্রত্যাহারের শেষ তারিখের আগে চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির কনভেনার নাহিদ ইসলাম, হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সামনে বলেন, “এক বা দুই দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।” তিনি এই মন্তব্যটি একাধিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শেষ বৈঠকের পর দিয়েছেন।
জোটের মূল সদস্যদের তালিকায় জামায়াত‑ই‑ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, বাংলাদেশ খলাফত মজলিস, খলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খলাফত আন্দোলন, অমর বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ নেজাম‑ই‑ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি অন্তর্ভুক্ত। প্রথমে আটটি দল জোট গঠন করেছিল, পরে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং অমর বাংলাদেশ পার্টি যোগ দেয়।
জামায়াত‑ই‑ইসলামের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আহসানুল মাহবুব জুবায়ের উল্লেখ করেন, “আমরা প্রায় সমাপ্তি পর্যায়ে পৌঁছেছি। ঘোষণাটি যৌথভাবে করা হবে।” এই মন্তব্যটি জোটের সমন্বয় প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যৌথ সচিব অশরাফুল আলম জানান, নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী চূড়ান্ত হলে অন্যান্য প্রার্থীদের প্রত্যাহার করতে বলা হবে। তিনি জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে সুসংহত করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বাংলাদেশ খলাফত মজলিসের সচিব সাধারণ মাওলানা জালালউদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রথমে আমরা জামায়াতের সঙ্গে বসে বিষয়গুলো সমাধান করব, তারপর ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা করব। এরপর ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সঙ্গে দেখা করতে হতে পারে।” তিনি জোটের ধাপে ধাপে সমঝোতার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করেছেন।
কিছু নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত প্রার্থী ত্যাগ করেছে, তবে ইসলামী আন্দোলন এখনও সম্পূর্ণভাবে সমঝোতা করেনি। অন্যদিকে, কিছু স্থানে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী ত্যাগ করেছে, কিন্তু জামায়াতের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। এই পারস্পরিক সমন্বয় প্রক্রিয়া জোটের অভ্যন্তরীণ জটিলতা প্রকাশ করে।
নেতারা জোটের সমন্বয়কে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাবশালী হিসেবে দেখছেন। সিট‑শেয়ারিং চুক্তি সম্পন্ন হলে জোটের প্রার্থী তালিকা একত্রিত হবে, যা নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটার ভিত্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, এই চুক্তি ভোটারদের কাছে জোটের ঐক্য ও সংগঠনকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে।
প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত হলে নামনিবন্ধন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগে সকল প্রার্থীকে একত্রিত করা হবে। এ জন্য নির্বাচনী কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়ও করা হবে, যাতে কোনো প্রার্থী দ্বন্দ্বে না পড়ে।
অবশেষে, জোটের নেতারা একে অপরের সঙ্গে সমঝোতা বজায় রেখে, নির্বাচনের পূর্বে সর্বোচ্চ সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত ঘোষণার পর ভোটারদের কাছে জোটের নীতি ও লক্ষ্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হবে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত হয়।



