20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিলিন্ডসি গ্রাহাম ইরানীয় বিক্ষোভকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ঘোষণা

লিন্ডসি গ্রাহাম ইরানীয় বিক্ষোভকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ঘোষণা

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম শনিবার ইরানীয় বিক্ষোভকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আসছে বলে জানিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে ইরানের জনগণের দীর্ঘকালীন দুঃস্বপ্নের সমাপ্তি সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন। পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে পুনরায় শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিকে উল্লেখ করেন।

গ্রাহাম পোস্টে ইরানীয় জনগণের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানান, “আপনার দীর্ঘকালীন কষ্ট শীঘ্রই শেষ হবে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের স্বাধীনতা রক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে ইরানীয়দের সাহস ও দৃঢ়সংকল্পকে প্রশংসা করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প যখন “মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন” স্লোগান ব্যবহার করেন, তখন তার অর্থ হল ইরানীয় বিক্ষোভকারীদের আয়াতুল্লাহ ও তাদের সহযোগীদের ওপর বিজয় অর্জন করা। গ্রাহাম এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

ইরানে চলমান প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নাগরিকদের উদ্দেশে গ্রাহাম বললেন, “যারা আত্মত্যাগ করছেন, তাদের সবাইকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ হোক। সহায়তা আসছে।” তিনি এই বার্তাকে ইরানীয়দের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।

কয়েক দিন আগে গ্রাহামকে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করা যায়, যেখানে ট্রাম্পের হাতে “মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন” লেখা একটি টুপি ছিল। এই দৃশ্যটি ইরানীয় বিক্ষোভের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে তুলেছে।

গ্রাহামের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সরকারী মুখপাত্র এখনও কোনো মন্তব্য করেননি, তবে ইরানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে এটি বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশ্য সমর্থন ইরানীয় বিক্ষোভের আন্তর্জাতিক মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত সহায়তা প্রদান করে, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি তীব্র হতে পারে এবং শাসক গোষ্ঠীর উপর চাপ বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের শাসক গোষ্ঠী এই ধরনের মন্তব্যকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে ধাবিত করতে পারে।

ইরানীয় বিক্ষোভের মূল দাবি স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গ্রাহামের সমর্থন এই দাবিগুলোর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে দৃঢ় করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী ইরান নীতি, যার মধ্যে পারমাণবিক চুক্তি থেকে প্রত্যাহার এবং সান্দ্রিক নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত, এই নতুন সমর্থনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রাহামের মন্তব্যের ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন বা নতুন সংলাপের দরজা খুলতে পারে, যদিও তা বাস্তবায়নে সময় ও পারস্পরিক ইচ্ছা প্রয়োজন।

ইরানীয় বিক্ষোভকারীরা গ্রাহামের বার্তাকে উৎসাহের স্রোত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, তবে বাস্তব সহায়তা কী রূপ নেবে তা এখনও অনিশ্চিত।

এই ঘটনাটি ইরানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মোড়ের সূচনা করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments