ম্যাকলেসফিল্ডের অ-প্রফেশনাল দল ২-১ স্কোরে ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে এফএ কাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। ১ জানুয়ারি শনিবারের শেষ সিগন্যালের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তরা মাঠে ছুটে গিয়ে ক্যাপ্টেন পল ডসনকে উঁচুতে তুলে ধরেছিল। ডসনের মাথায় প্রাথমিক সংঘর্ষের ফলে ব্যান্ডেজ ছিল, তবু তিনি দলের আত্মা ও দৃঢ়তা প্রকাশ করছিলেন।
ম্যাকলেসফিল্ডের এই জয়টি পাঁচটি ডিভিশন, মোট ১১৭ লিগ স্থান পার্থক্যকে অতিক্রম করে এফএ কাপের সবচেয়ে বড় শক হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। যদিও লিগের পার্থক্য বিশাল, মাঠে দুই দলের পারফরম্যান্সে কোনো বড় ফারাক দেখা যায়নি; ম্যাকলেসফিল্ডের খেলোয়াড়রা সমানভাবে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
এই জয়টি দুঃখজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্জিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর, ম্যাকলেসফিল্ডের ফরোয়ার্ড ইথান ম্যাকলিয়েড একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান, যখন তিনি বেডফোর্ড টাউনের সঙ্গে ন্যাশনাল লিগ নর্থের ম্যাচের পর বাড়ি ফিরছিলেন। তার মৃত্যু দলের সকলের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
স্মরণীয় দিনটি কাটানোর সময়, ইথানের ছবি দুগের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয় এবং স্টেডিয়ামের স্ট্যান্ডে একটি ট্রিবিউট ব্যানার তোলা হয়। ২১ বছর বয়সী তরুণের বাবা-মা ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন, যা দলের জন্য অতিরিক্ত প্রেরণা যোগায়।
কোচ জন রোনি ম্যাচের পর ইথানের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে বলেছিলেন, “আমি বিশ্বাস করি তিনি আজ আমাদের সঙ্গে আছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “তাঁর মা-বাবা এখানে এসে পরিবর্তন কক্ষ ও অফিসে উপস্থিত হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্থ বহন করে।” এই অনুভূতি পুরো দলের মনোভাবকে উজ্জীবিত করে।
ক্রিস্টাল প্যালেসের দিক থেকে, গত মে ওয়েমবলে ম্যানচেস্টার সিটিকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো এফএ কাপ জিতার পর তারা উল্লাসে মেতে উঠেছিল। তবে এই ম্যাচে তারা ধারাবাহিক নয়-জয়ী সিরিজে আটকে ছিল, মোট নয়টি ম্যাচে কোনো জয় না পেয়ে। তাদের পারফরম্যান্সে স্পষ্টতই মনোযোগের ঘাটতি দেখা গিয়েছিল।
ম্যাকলেসফিল্ডের খেলোয়াড়রা পুরো ম্যাচে উত্সাহ ও গর্বের সঙ্গে খেলেছে, যা তাদের অ-প্রফেশনাল অবস্থানকে অতিক্রম করে দেখিয়েছে। ডসনের নেতৃত্বে দলটি প্রতিপক্ষের আক্রমণকে চমৎকারভাবে প্রতিহত করেছে এবং শেষ মুহূর্তে গেম জিতেছে।
এই জয়টি ম্যাকলেসফিল্ডকে এফএ কাপের ইতিহাসে প্রথম অ-লিগ দল হিসেবে শিরোপা রক্ষাকারীকে বাদ দেওয়া দল করে তুলেছে। পূর্বে কোনো অ-প্রফেশনাল দল শিরোপা রক্ষাকারীকে পরাজিত করতে পারেনি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যাকলেসফিল্ডের দুই গোলের মধ্যে একটি ডসনের শিরোনামযুক্ত শট, আর অন্যটি দলের মিডফিল্ডের সমন্বয় থেকে এসেছে। প্যালেসের একক গোলটি মাঝখানে করা হয়েছিল, তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না।
ভক্তদের উল্লাস, ক্যাপ্টেনের বেঁধে রাখা ব্যান্ডেজ, এবং ইথানের স্মৃতিচিহ্ন—এই সব উপাদান একসাথে একটি আবেগময় মুহূর্ত তৈরি করেছে, যা ফুটবলের ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে।
ম্যাকলেসফিল্ডের পরবর্তী এফএ কাপ রাউন্ডের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে তুলবে এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
সারসংক্ষেপে, অ-প্রফেশনাল দল ম্যাকলেসফিল্ডের এই বিজয় শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও স্মৃতিতে একটি বড় মাইলফলক, যেখানে তারা শিরোপা রক্ষাকারীকে পরাজিত করে ফুটবলের অপ্রত্যাশিত শক্তি প্রমাণ করেছে।



