20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক কুকার বিক্রি বাড়ছে, বাজারে নতুন প্রবণতা

গ্যাস সংকটে বৈদ্যুতিক কুকার বিক্রি বাড়ছে, বাজারে নতুন প্রবণতা

গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহরের গৃহস্থালিগুলো বৈদ্যুতিক কুকারের দিকে ঝুঁকেছে। গ্যাসের অনিয়মিত প্রবাহের ফলে দৈনন্দিন রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে বিকল্প শক্তি উৎসের চাহিদা তীব্রতর হয়েছে। ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড মডেলগুলোর বিক্রয় দ্রুত বাড়ছে, যা স্থানীয় বাজারে নতুন গতিবেগ সৃষ্টি করেছে। এই প্রবণতা কেবল ভোক্তাদের নয়, উৎপাদনকারী ও বিক্রয় চেইনের ব্যবসায়িক কৌশলকেও প্রভাবিত করছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মৌসুমি মিরধা গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় সম্প্রতি ইন্ডাকশন কুকার কিনেছেন। তিনি জানান, দিনের বেলা গ্যাস প্রায়ই না পাওয়া যায়, আর রাতের সময় সামান্য সরবরাহ হলেও তা অনিশ্চিত, ফলে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়ে। ইন্ডাকশন কুকার দিয়ে তিনি যেকোনো সময় খাবার গরম বা রান্না করতে পারেন, বিশেষ করে জরুরি অবস্থায় বা দ্রুত খাবার প্রস্তুতিতে এটি সহায়ক। গ্যাসের অনুপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তিনি বলছেন, এই যন্ত্রটি তাদের দৈনন্দিন রুটিনে স্বস্তি এনে দিয়েছে এবং গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।

বাজারে ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজি, মিয়াকো এবং ফিলিপসের মতো পরিচিত ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক কুকার আধিপত্য বিস্তার করেছে। এই ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন ক্ষমতা ও ডিজাইনের মডেল সরবরাহ করে, যা মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে। নোভা ও প্রেস্টিজের কম পরিচিত মডেলগুলোও বাজারে উপস্থিত, যদিও তাদের বিক্রয় পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইনফ্রারেড কুকার কিছুটা বেশি দামী, তবে মোটামুটি দাম টাকার ৩,৫০০ থেকে ৬,০০০ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়; প্রিমিয়াম মডেলগুলো এর চেয়েও বেশি মূল্যে পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত ফিচার যেমন স্মার্ট কন্ট্রোল ও দ্রুত গরম হওয়ার সুবিধা প্রদান করে।

আরএফএল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর এন পল জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৈদ্যুতিক কুকারের চাহিদা, বিশেষ করে ইনফ্রারেড ও ইন্ডাকশন মডেলগুলোর, উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে ইনফ্রারেড ও ইন্ডাকশন কুকারের স্টক প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন অর্ডারগুলো দ্রুত পূরণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে গ্যাসের সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও বাড়তি গ্যাস সিলিন্ডার মূল্যের প্রভাব রয়েছে। আরএফএল গ্রুপ এখন উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে মজবুত করতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

ইন্ডাকশন কুকার চৌম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে সরাসরি পাত্রকে গরম করে, ফলে তাপের ক্ষতি কমে এবং রান্নার সময় দ্রুত হয়। অন্যদিকে ইনফ্রারেড কুকার প্রচলিত কয়েল হিটার হিসেবে কাজ করে, যা পাত্রের পৃষ্ঠে তাপ প্রেরণ করে। পল উল্লেখ করেন, ইন্ডাকশন কুকার প্রায় ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, ফলে শক্তি দক্ষতা বেশি এবং পরিবেশগত প্রভাব কমে। স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই যন্ত্রগুলো দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের তুলনায় বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে, বিশেষ করে শহুরে এলাকায় যেখানে বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নতি চলছে।

এন্ট্রি-লেভেল বৈদ্যুতিক কুকারের দাম প্রায় টাকার ৫,০০০, এবং চারজনের পরিবারের নিয়মিত ব্যবহার করলে মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় টাকার ২,০০০ হয়। গ্যাস সিলিন্ডারের বর্তমান দাম টাকার ২,২০০, যা মাসিক গ্যাস ব্যবহারকে প্রায় সমান বা কম করে তুলতে পারে। বিদ্যুৎ ট্যারিফের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে, পরিবারগুলো গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক কুকারকে দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। এছাড়া, ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করলে গ্যাস লিকেজ বা সিলিন্ডার ফাটল থেকে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে, যা গৃহস্থালির নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম টাকার ২,২০০, যা গত মাসে টাকার ১,৩০৬ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সরবরাহের ঘাটতি, লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক গ্যাস মূল্যের ওঠানামার ফলে ঘটেছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, স্টক সীমিত থাকায় দাম আরও বাড়তে পারে, যা গৃহস্থালির

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments