ঝালকাঠি উপজেলার নলছিটি থানা অধীনে অবস্থিত বৈচন্ডী গ্রামে শনিবার রাত প্রায় ৯টায় একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। ২০ বছর বয়সী নাজমুল ইসলাম, নলছিটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র, নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন মেরামতে গিয়ে বিদ্যুৎ শকের শিকার হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
নাজমুলের পিতা মো. শাহজাহান হাওলাদার এবং চাচা মো. আনিছুর রহমানের মতে, সন্ধ্যাবেলা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগে সমস্যার সম্মুখীন হয়ে নাজমুল নিজে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। কাজের সময় তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে লাইনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে শক পান এবং মাটিতে পড়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নাজমুলকে তৎক্ষণাৎ তুলে নিয়ে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তারগণ জানিয়ে দেন যে শকের ফলে তার শারীরিক অবস্থা অস্থির এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর ঘোষণা করা হয়।
নলছিটি থানা ওসি আরিফুল আলম ঘটনাটির খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ পরিবার ও উপস্থিত সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। ভবিষ্যতে তদন্তের অংশ হিসেবে সকল প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তে জানা যাবে নাজমুলের কাজের সময় বিদ্যুৎ সংযোগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি কিনা। স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগকেও ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে লাইনটির প্রযুক্তিগত অবস্থা ও সম্ভাব্য ত্রুটি যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা নাজমুলের অকাল মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে, একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সেবা দ্রুততর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বাড়িতে বিদ্যুৎ কাজের জন্য অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান বা প্রশিক্ষিত কর্মীর সহায়তা নেওয়া উচিত। এছাড়া, বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বৈচন্ডী গ্রামে নাজমুলের মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়কে শোকাহত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নাজমুল তার সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় এবং তার অকাল মৃত্যু একটি বড় ক্ষতি।
অধিক তদন্তের পর যদি কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নলছিটি থানা ওসি উল্লেখ করেছেন, তদন্তের ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই ঘটনাটি বিদ্যুৎ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



