27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকিউবার অর্থনীতি দুর্বল হলেও সরকার স্থিতিশীল, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন প্রকাশ

কিউবার অর্থনীতি দুর্বল হলেও সরকার স্থিতিশীল, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন প্রকাশ

সিআইএ সম্প্রতি প্রকাশিত গোপন বিশ্লেষণে জানিয়েছে যে কিউবার অর্থনৈতিক অবস্থা ভঙ্গুর হলেও বর্তমান কমিউনিস্ট শাসন কাঠামো এখনও টিকে আছে এবং সরকারের পতনের কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই মূল্যায়নটি যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক তদন্তের ফল, যেখানে দেশীয় আর্থিক সংকটের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কিউবার অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে রয়েছে, তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও কার্যকরভাবে কাজ করছে। সিআইএর মতে, সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ শক্তি, বিশেষত তরুণ জনগোষ্ঠীর সক্রিয়তা, বর্তমানে পর্যাপ্ত নয়।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবাকে সমর্থন হারিয়ে পতনের পথে এগিয়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কিউবার আর্থিক সহায়তা মূলত ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নির্ভরশীল, যা এখনো অনিশ্চিত।

তবে সিআইএর গোপন প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বিশ্লেষণটি বলে যে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৯০-এর দশকের ‘স্পেশাল পিরিয়ড’ এর মতো চরম পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং সরকার এখনও জনমত নিয়ন্ত্রণে সক্ষম।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে কিউবার জনসংখ্যার মধ্যে তরুণদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, যা বৃহৎ পরিসরের বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যুবশক্তি ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সংগঠন ও সমন্বয় গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।

ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারে তিনি কিউবার তেল সরবরাহের ওপর ভেনেজুয়েলার নির্ভরতা তুলে ধরেন এবং বলেন যে এই নির্ভরতা শেষ হলে কিউবার অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তবু সিআইএর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান তেল সংকটের প্রভাব এখনও ১৯৯০-এর দশকের সংকটের তুলনায় ততটা তীব্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড ফেইনবার্গ, যিনি রয়টার্সের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন, তিনি উল্লেখ করেন যে যখন জনগণ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগে, তখন তাদের প্রধান উদ্বেগ পরিবারকে রোজগার ও খাবার নিশ্চিত করা হয়, রাজনৈতিক বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায় না।

ফেইনবার্গ আরও সতর্ক করেন যে যদি জনসংখ্যা সম্পূর্ণভাবে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়ে, তবে তারা রাজনৈতিক দমনে ভয় হারিয়ে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেলের জনপ্রিয়তা ফিদেল কাস্ত্রোর সময়ের তুলনায় কম, ফলে দীর্ঘমেয়াদে সরকার পতনের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না।

মাদুরোতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফলে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগুয়েজকে তেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে কিউবার সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার সিয়েনফুয়েগোসের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়া ও মেক্সিকো কিউবাকে বিকল্প তেল সরবরাহের চেষ্টা করলেও, তেলের গুণগত মানের পার্থক্যের কারণে কিউবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সীমাবদ্ধতা অর্থনৈতিক সংকটকে গভীর করলেও সরকার পতনের মতো তীব্র রাজনৈতিক পরিবর্তন এখনো ঘটেনি বলে সিআইএ উপসংহার টেনে নিয়েছে।

সর্বোপরি, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন নির্দেশ করে যে কিউবার অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়লেও রাজনৈতিক শাসন কাঠামো এখনও শক্তিশালী এবং তাত্ক্ষণিক পতনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। তবে যুবশক্তির ঘাটতি ও তেল সরবরাহের অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments