লিয়াম রোজেনিয়র চেলসির নতুন প্রধান কোচের পদে প্রথম ম্যাচে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে দ্য ভ্যালি স্টেডিয়ামে চার্লটন অ্যাথলেটিকের মুখোমুখি হয়ে ৫-১ বিশাল জয় অর্জন করেন। ফলাফলটি ক্লাবের সমর্থকদের জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে বিবেচিত, যদিও রোজেনিয়রের জন্য এখনও সমর্থকদের হৃদয় জয় করা বাকি।
ম্যাচের আগে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে প্রাক্তন মালিক রোমান আব্রামোভিচের নামে একটি গান বাজানো হয়, যা ভক্তদের মধ্যে স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করে। তবে সহ-মালিক বেহদাদ এঘবালির কোনো প্রশংসা শোনা যায়নি, যা মাঠের পরিবেশে সূক্ষ্ম পার্থক্য সৃষ্টি করে।
রোজেনিয়র প্রথম ম্যাচে মূল দলকে না দিয়ে দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি দলের গভীরতা পরীক্ষা করতে এবং তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা বাড়াতে চেয়েছেন। ফলে জোরেল হাতো, তসিন আদারাবিয়ো এবং মার্ক গুইয়ি প্রত্যেকেই গোলের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
ম্যাচের শুরুর দিকে মাইলস লিউবার্ন প্রথম গোলের মাধ্যমে দলকে এগিয়ে নেন। তার গোলের পর দ্য ভ্যালি সামান্য সময়ের জন্য ২-১ ব্যবধানে ফিরে আসে, যা ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা যোগায়। তবে চেলসির আক্রমণাত্মক চাপ দ্রুত ফিরে আসে এবং বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো নেতো পেনাল্টি থেকে গোল করেন, যা স্কোরকে আরও বাড়িয়ে দেয়। একই সময়ে এনজো ফের্নান্দেজও পেনাল্টি থেকে সফলভাবে গোল করে দলের মোট স্কোরে অবদান রাখেন। এই দুইটি পেনাল্টি গোল চেলসির আক্রমণাত্মক দক্ষতা এবং রক্ষার দুর্বলতা উভয়ই প্রকাশ করে।
মোট পাঁচটি গোলের মধ্যে চারটি চেলসির দ্বিতীয় সারির খেলোয়াড়ের হয়ে যায়, যা রোজেনিয়রের নির্বাচনের সঠিকতা প্রমাণ করে। দলটি পুরো ম্যাচ জুড়ে উচ্চমাত্রার প্রেসিং বজায় রাখে এবং দ্য ভ্যালির মতো কঠিন মাঠেও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
ম্যাচের পর রোজেনিয়র বললেন, “এটি একটি ইতিবাচক সূচনা, দলের মানসিকতা এবং প্রেসিং উভয়ই চমৎকার ছিল। দ্য ভ্যালির মতো কঠিন মাঠে আমরা নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছি এবং আমাদের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা কার্যকর হয়েছে।” তার এই মন্তব্য দলকে আত্মবিশ্বাসের বুস্ট দেয়।
প্রায় এক দশকের পর চেলসির নতুন কোচের প্রথম ম্যাচে জয় অর্জন করা একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। শেষবার যখন নতুন প্রধান কোচ প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন তা ছিল ২০১৬ সালে আন্তোনিও কন্তে, যিনি একইভাবে প্রথম ম্যাচে দলকে জয়ী করে তোলেন। এই ঐতিহাসিক সমান্তরাল রোজেনিয়রের জন্য অতিরিক্ত গর্বের বিষয়।
চেলসির পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার দল কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে, যেখানে জয়ের মাধ্যমে ফাইনালে প্রবেশের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে রোজেনিয়রের প্রিমিয়ার লিগে প্রথম উপস্থিতি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে নির্ধারিত হয়েছে।
এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রোজেনিয়রের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং দলীয় গঠনকে আরও পরীক্ষা করবে। বিশেষ করে আর্সেনালকে মোকাবেলা করার সময় চেলসির রক্ষণাত্মক স্থিতিশীলতা এবং আক্রমণাত্মক সৃজনশীলতা কীভাবে প্রকাশ পাবে তা সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
চেলসির এই জয় এবং রোজেনিয়রের প্রথম পদক্ষেপগুলোকে সমর্থকরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। যদিও এখনও সমর্থকদের সম্পূর্ণ সমর্থন অর্জন করা বাকি, তবে এই ফলাফল কোচের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছে।



