20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যচট্টগ্রামে চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক না করা হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

চট্টগ্রামে চিকিৎসা বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক না করা হলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে

চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে উৎপন্ন চিকিৎসা বর্জ্য যথাযথভাবে আলাদা না করে সংগ্রহ ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে, যা সংক্রামক রোগের বিস্তারসহ জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য নিষ্পত্তির জন্য রঙভিত্তিক পৃথকীকরণ প্রয়োজন; লাল বাক্সে স্যুরিং (নিডল ছাড়া) মত পুনর্ব্যবহারযোগ্য দূষিত বর্জ্য, হলুদে ব্যান্ডেজ ও তুলোর সুয়াব, সাদা পাংচার-প্রুফ পাত্রে সূচ ও ব্লেড, নীলতে কাচের যন্ত্রপাতি এবং কালোতে অ-বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য রাখা হয়। তবে পঞ্চলাইশ, মেহেদিবাগ ও সুরসন রোডের বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এই রঙভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং সব ধরনের বর্জ্য একসাথে মিশিয়ে ফেলা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিকাল অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজেসের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাকিল আহমেদ জানান, বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক না করলে হেপাটাইটিস বি, সি এবং এইডসের মতো রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, যা সংগ্রাহক ও সাধারণ জনগণের উভয়ের জন্যই হুমকি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না হলে রোগের বিস্তার দ্রুত হতে পারে এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী রোগীর নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশেপাশে দেখা যায়, অ-সেগ্রিগেটেড বর্জ্যের গাদায় থেকে তরল বর্জ্য রাস্তায় ঝরে পড়ছে এবং সরাসরি জরুরি বিভাগে পৌঁছাচ্ছে। এই অবস্থা রোগী ও সাধারণ মানুষের সরাসরি সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা তৈরি করছে, যা স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলমের মতে, শহরে মোট ২৯০টি নিবন্ধিত বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৯২টি হাসপাতাল ও ১৯৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া দুইটি সরকারি হাসপাতাল ও ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে শহরে অননুমোদিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রক তদারকি থেকে বাদ পড়ে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন প্রায় তিন টন চিকিৎসা বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এই পরিমাণের বর্জ্য সঠিকভাবে পৃথক না করলে পরিবেশ দূষণ, মাটি ও পানির গুণগত মান হ্রাস এবং মানব স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে, রঙভিত্তিক পৃথকীকরণ নিশ্চিত করে এবং নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যান। এছাড়া, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ এবং যথাযথ পাত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য বর্জ্য নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। রোগের বিস্তার রোধে, রোগীর নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং পরিবেশের স্বাস্থ্যের রক্ষায়, সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সঠিক বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং সময়মতো নিষ্পত্তি করা অপরিহার্য।

আপনার আশেপাশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেমন চলছে? যদি কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করেন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে নিরাপদ পরিবেশ গঠনে অংশ নিন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments