গুগল যুক্তরাজ্যের একটি সিনিয়র কর্মী, ভিক্টোরিয়া উডাল, কর্মস্থলে যৌন হয়রানি ও অনুপযুক্ত আচরণ সম্পর্কে জানিয়ে হেয়ারিংয়ের পর তার পদ থেকে বরখাস্তের অভিযোগ তুলেছেন। উডাল দাবি করেন যে তিনি একটি ম্যানেজারকে রিপোর্ট করার পর কোম্পানি তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
উডাল গুগলের যুক্তরাজ্য সেলস ও এজেন্সি টিমে সিনিয়র ইন্ডাস্ট্রি হেড হিসেবে কাজ করতেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, আগস্ট ২০২২-এ তিনি একটি মহিলা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জানেন যে টিমের একজন ম্যানেজার ব্যবসায়িক লাঞ্চে নিজের স্বামী-স্ত্রীর স্বিংয়ার জীবনধারা নিয়ে গর্ব করে বলেছিলেন এবং তার স্ত্রীর নগ্ন ছবি দেখিয়েছিলেন। ম্যানেজার এছাড়াও তার কর্মীদের সামনে কালো নারী সঙ্গে যৌন সম্পর্কের সংখ্যা নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন।
উডাল জানান যে তিনি এই ঘটনার বিষয়ে গুগলের অভ্যন্তরীণ তদন্তের জন্য অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে প্রকাশ পায় যে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার দুইজন মহিলা সহকর্মীর স্পর্শের অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করেছেন, যা যৌন হয়রানির শর্ত পূরণ করে। তদন্তের নথি অনুসারে ম্যানেজারকে পরে বরখাস্ত করা হয়।
উডাল আরও দাবি করেন যে তার সরাসরি বস তাকে “অবিরাম প্রতিশোধের” শিকার করেছেন। তিনি বলেন, তার অভিযোগে ম্যানেজারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও শাস্তি দেওয়া হয়, কারণ তারা ঘটনাটি দেখেছেন কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেননি। উডালের অভিযোগে গুগলের অভ্যন্তরে একটি “বয়স ক্লাব” সংস্কৃতি রয়েছে, যেখানে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত পুরুষদের জন্য একান্ত “চেয়ারম্যানের লাঞ্চ” আয়োজন করা হতো।
গুগল এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং জানায় যে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কোনো “বয়স ক্লাব” সংস্কৃতি পাওয়া যায়নি। কোম্পানি উল্লেখ করে যে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত লাঞ্চটি কোম্পানির নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় বন্ধ করা হয়েছিল। গুগল আরও যুক্তি দেয় যে উডাল হেয়ারিংয়ের পর অতিরিক্ত উদ্বেগে “পারানয়েড” হয়ে গেছেন এবং সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে “অসুস্থ” হিসেবে দেখছেন।
লন্ডন সেন্ট্রাল এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় শীঘ্রই রায় প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রায়ের ফলাফল গুগলের কর্মী নীতি ও হেয়ারিং প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর কর্মস্থল নিরাপত্তা বিধির আলোকে।
গুগলের এই মামলাটি কোম্পানির ব্র্যান্ড ইমেজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রযুক্তি সেক্টরে প্রতিভা আকর্ষণ ও ধরে রাখার জন্য কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও বৈচিত্র্য নীতি গুরুত্বপূর্ণ। হেয়ারিং সংক্রান্ত মামলায় নেতিবাচক রায় গুগলের নিয়োগকর্তা হিসেবে আকর্ষণ কমাতে পারে এবং শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা হ্রাস করতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, গুগলের মতো বড় টেক কোম্পানিগুলোর জন্য কর্মস্থল সংস্কৃতি ও নৈতিকতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো আর আর্থিক ফলাফলকে সরাসরি প্রভাবিত করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে নিয়োগ, গ্রাহক বিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রক পর্যবেক্ষণে প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের মামলায় দ্রুত ও স্বচ্ছ সমাধান কোম্পানির সুনাম রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
গুগল ইতিমধ্যে তার বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নীতি পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দিয়েছে, তবে উডালের অভিযোগে উল্লেখিত “বয়স ক্লাব” সংস্কৃতি ও পুরুষদের একান্ত লাঞ্চের বিষয়টি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতির গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন নির্দেশ করে।
কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগ এই মামলায় উল্লেখিত সমস্ত অভিযোগের উপর পুনরায় তদন্তের পরিকল্পনা জানিয়েছে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও সম্মানের মানদণ্ডকে শক্তিশালী করার জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার কথা প্রকাশ করেছে।
উডালের মামলায় রায় গুগলের ভবিষ্যৎ কর্মী নীতি ও হেয়ারিং মোকাবিলার পদ্ধতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে এই ঘটনা গুগলের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা কর্মস্থলে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বাজারে গুগলের শেয়ার মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব এখনো সীমিত, তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মস্থল সংস্কৃতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিনিয়োগকারীর মনোভাব গঠন করতে পারে। তাই গুগলকে এই মামলাকে কেবল আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, কৌশলগতভাবে পরিচালনা করে কর্মী ও গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, গুগল যুক্তরাজ্যের সিনিয়র কর্মী হেয়ারিংয়ের পর চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি উত্থাপন করেছেন, কোম্পানি তদন্তে ম্যানেজারের যৌন হয়রানি নিশ্চিত করেছে, তবে প্রতিশোধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রায়ের ফলাফল গুগলের কর্মস্থল নীতি ও বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



