শুক্রবার সন্ধ্যা, ১০ জানুয়ারি, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ‑ময়মনসিংহ রেলপথের চল্লিশা এলাকায় কমিউটার ট্রেনের ধাক্কা ঘটায় দুই যুবক প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলটি চল্লিশা বাজারের সংলগ্ন নতুন বাইপাস মোড়ে, যেখানে ট্রেনের গতি ও পথের অপ্রতুলতা সন্দেহের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সকালবেলা ট্রেনটি চল্লিশা বাজারের কাছাকাছি পারাপার করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে গাড়ি-ট্রেনের সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়, ফলে দুজন যাত্রীর গায়ে গুরুতর আঘাত হয় এবং দ্রুতই মৃত্যু ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও রেলওয়ে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা চালু করে।
মৃতদেহের পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী আকাশ রায়, দিনাজপুরের চিরিবন্দর ছোট বাউল গ্রামের সন্তান, এবং ২৫ বছর বয়সী রাসেল মিয়া, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মালিজাকান্দা গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র। উভয়ই জীবন বাবুর রাইস মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দুজনের গৃহপরিবারের সদস্যরা জানান যে, তারা দুজনই বাজারের নতুন বাইপাস মোড়ে কাজের সময় গাড়ি চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষের মুহূর্তে কোনো সতর্কতা সংকেত পাননি। তাদের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনা ঘটার পর, রেলওয়ে ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করে, ট্রেনের চালক ও গাড়ি চালকের বিবরণ নথিভুক্ত করে। ট্রেনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় এবং রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হয়।
মৃতদেহগুলো নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ময়নাতদন্তের কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানা ওয়াকিবদার অফিসার মো. আল মামুন সরকার ঘটনাটির তদন্তে তৎপরতা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে বিভাগ ও স্থানীয় পুলিশ একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রেনের গতি, সিগন্যাল সিস্টেম এবং রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হবে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে চলছিল এবং গতি সীমা অতিক্রমের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে রেলপথের সিগন্যাল বা রেলপথের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে, পুলিশ ট্রেনের চালকের বিবৃতি, গাড়ি চালকের রেকর্ড এবং রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ লগ সংগ্রহ করেছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ট্রেনের ধাক্কা ঘটার ফলে অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধি, ট্রাফিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসন্ধান করা হবে। প্রয়োজনে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে।
অধিকন্তু, রেলওয়ে বিভাগকে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, সিগন্যাল সিস্টেমের আপডেট এবং রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় আদালতে তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে আপডেট দেওয়ার জন্য একটি শোনানির ব্যবস্থা করা হবে। সংশ্লিষ্ট পরিবার ও সমাজের জন্য শোক প্রকাশের পাশাপাশি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



