নিউ ব্রান্সউইক, কানাডার একটি ছোট প্রদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় পাঁচশো মানুষ অজানা মস্তিষ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগের প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্পষ্ট না হলেও রোগীর সংখ্যা ও উপসর্গের বৈচিত্র্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রোগের মূল কারণ ও সংক্রমণ সম্ভাবনা এখনও গবেষণার অধীনে রয়েছে।
২০১৯ সালের শুরুর দিকে প্রদেশের একটি হাসপাতালের দুই রোগীকে ক্রুয়ৎসফেল্ড‑যাকব রোগ (CJD) নির্ণয় করা হয়। CJD একটি বিরল, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং প্রায়শই মৃত্যুর কারণ হওয়া নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ, যা সংক্রামকও হতে পারে। এই ঘটনার পর দ্রুতই একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয় রোগের বিস্তার রোধে এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ পরীক্ষা করার জন্য।
বিশেষজ্ঞ দলটি রোগের বিস্তার রোধে কঠোর পর্যবেক্ষণ চালায় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের কোনো নতুন কেস সনাক্ত না হওয়ায় সংক্রমণ সীমিত হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। তবে রোগের উপস্থিতি এবং রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের পরিধি বিস্তৃত হয়।
দলটির মধ্যে ছিলেন আলিয়ের মার্রেরো, কিউবা থেকে আগত একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী, যিনি প্রায় ছয় বছর ধরে নিউ ব্রান্সউইকে কাজ করছেন। মার্রেরো কয়েক বছর ধরে CJD‑সদৃশ উপসর্গযুক্ত রোগী দেখছেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে রোগীরা প্রায়ই দ্রুত অগ্রসর ডিমেনশিয়া এবং অস্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শন করেন। তার পর্যবেক্ষণে দেখা যায় রোগীর বয়সের পরিসর বিস্তৃত, তরুণদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়।
মার্রেরো জানান, তার রেকর্ডে ইতিমধ্যে বিশের বেশি কেস রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে রোগের প্রকৃতি নির্ধারণে অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দ করতে হয়।
এই রোগের সম্ভাব্য সংযোগ CJD সিস্টেমের সঙ্গে যাচাই করার জন্য রোগীর তথ্য কানাডার ক্রুয়ৎসফেল্ড‑যাকব রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় (CJDSS) পাঠানো হয়। তবে সিস্টেমের বিশ্লেষণে কোনো CJD সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা রোগের স্বতন্ত্র প্রকৃতি নির্দেশ করে।
রোগীর উপসর্গের তালিকা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। কিছু রোগী ডিমেনশিয়া, ওজন হ্রাস, অস্থিরতা এবং অপ্রত্যাশিত পেশী সংকোচন অনুভব করেন। অন্যদিকে কিছু রোগী মুখের পেশিতে টিক টিক শব্দ, চোখের নড়াচড়া এবং অস্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি জানান।
অধিকাংশ রোগীর রিপোর্টে পেশীর ক্ষয়, ত্বকের শুষ্কতা, চুল পড়া এবং অঙ্গের ব্যথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘুমের ব্যাঘাত, জাগ্রত অবস্থায় ভ্রান্তি এবং অতিরিক্ত ঘাম ও লালা স্রাবও সাধারণ উপসর্গের মধ্যে পড়ে।
কিছু রোগী ক্যাপগ্রাস ডেলুশন (Capgras Delusion) অভিজ্ঞতা করেন, যেখানে তারা বিশ্বাস করেন যে পরিচিত ব্যক্তি কোনো সমান চেহারার প্রতারক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। অন্য রোগীরা কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং এমনকি অক্ষর লিখতে পারা ভুলে যান, যেমন এক রোগী ‘Q’ অক্ষর লিখতে পারা ভুলে গেছেন।
এই জটিল উপসর্গগুলো রোগীর দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে, কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিবারকে মানসিক চাপের মধ্যে ফেলে। রোগের অগ্রগতি দ্রুত হওয়ায় রোগীর যত্নে বিশেষ মনোযোগ প্রয়োজন এবং রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের সমর্থনও অপরিহার্য।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে রোগের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এবং রোগীর ডেটা সংগ্রহের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে, রোগের সম্ভাব্য সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা প্রোটোকল কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
রোগের প্রকৃতি সম্পূর্ণ স্পষ্ট না হওয়ায় রোগী ও তাদের পরিবারকে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে। এছাড়া, রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও সমর্থনমূলক থেরাপি গ্রহণের জন্য নিয়মিত ফলো‑আপ করা গুরুত্বপূর্ণ। রোগের মূল কারণ উদ্ঘাটিত হলে যথাযথ চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গৃহীত হবে, তাই বর্তমান সময়ে তথ্য শেয়ার করা ও সতর্ক থাকা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



