লন্ডনের পশ্চিম অংশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের ব্যালকনিতে একটি প্রতিবাদকারী চড়ে ওঠার ঘটনা শনিবার বিকেলে ঘটেছে। শতাধিক demonstrator গুলি ফ্ল্যাগ নাড়িয়ে, সরকারবিরোধী স্লোগান চিৎকার করে সমাবেশ গড়ে তুলেছিল। ঘটনাস্থলে মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে, দুইজনকে গ্রেফতার করে এবং আরেকজনকে অবৈধ প্রবেশের জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েনের কথা জানিয়ে, “কোনো গুরুতর বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি” এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় উপস্থিত থাকবে বলে জানায়। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, দুইজনকে যথাক্রমে ‘গুরুতর অবৈধ প্রবেশ’ এবং ‘অবৈধ প্রবেশ ও জরুরি কর্মীর ওপর আক্রমণ’ এর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ব্যালকনি দখলের সময় একটি ভিডিওতে দেখা যায় একজন ব্যক্তি ইরানি পতাকা ছিঁড়ে ফেলছে। পরে দূতাবাসের অফিসিয়াল X (টুইটার) অ্যাকাউন্টে পতাকাটি পুনরায় স্থাপনের ছবি প্রকাশ করে, যা ঘটনার পর দ্রুত পুনরুদ্ধারকে নির্দেশ করে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কিছু ব্যক্তি রেজা পেহলাভির ছবি তুলে ধরেছে, যিনি ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর শাসন থেকে সরিয়ে নেওয়া শেষ শাহের পুত্র। ইরানের অভ্যন্তরে রেজা পেহলাভির প্রত্যাবর্তনের দাবি বাড়ছে, এবং এই চিত্রগুলো আন্তর্জাতিক সমর্থকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী প্রতিবাদে মানবাধিকার সংস্থাগুলি জানিয়েছে অন্তত ৫০ জন demonstrator নিহত হয়েছে। এই সহিংসতা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন নীতির ফলাফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি দূতাবাসের সামনে বিশ্বব্যাপী সমান ধরনের প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে; ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে একই সময়ে ইরান বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সমাবেশগুলো ইরানের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অস্থিরতার আন্তর্জাতিক প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউকে প্রধানমন্ত্রী কীর স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এম্যানুয়েল ম্যাক্রন এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক শোল্টস একত্রে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবাদকারীদের নিরাপদে সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ইরানকে তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লন্ডনের পুলিশ ভবিষ্যতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, এবং বর্তমান পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান না হলে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। বর্তমানে প্রতিবাদ চলমান, তবে পুলিশ উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কোনো বড় বিশৃঙ্খলা ঘটেনি।



