নাইজেরিয়ার বিখ্যাত লেখিকা চিমামান্ডা অডিচির ২১ মাসের পুত্র নকানু ননামদি বুধবার একটি সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর ল্যাগোসের ইউরাকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। পরিবারটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাসপাতালের বহু ত্রুটি উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছে।
পরিবারের মতে, নকানুকে অক্সিজেন সরবরাহ থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং অতিরিক্ত সেডেশন দেওয়া হয়, যার ফলে তার হৃদয় আঘাত পায়। এছাড়া, শিশুটিকে পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান না দিয়ে, মানক প্রক্রিয়ার বিপরীতে পরিবহন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলো নকানুর শাশুড়ি, ডাঃ অ্যান্থিয়া নওয়ান্ডু, আরাইজ টিভিতে একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেডিকেল ডিরেক্টর নকানুকে অতিরিক্ত সেডেশন দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে হৃদযন্ত্রের আক্রমণে রূপান্তরিত হয়। তদুপরি, শিশুর মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবে আঘাতের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালটি পরিবারের শোকের প্রতি “গভীর সমবেদনা” প্রকাশ করে, তবে তারা কোনো অনুপযুক্ত সেবা প্রদান করেনি বলে অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র জানান, নকানু হাসপাতালে “গুরুতর অবস্থায়” পৌঁছেছিলেন এবং তার যত্ন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, নকানুর মৃত্যুর বিষয়ে একটি তদন্ত বর্তমানে চলছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পরিবারের একটি ব্যক্তিগত বার্তা, যা পরে অনলাইনে ফাঁস হয়েছে, তাতে নকানুর মৃত্যুর পেছনে গুরুতর ক্লিনিক্যাল ত্রুটি ঘটেছে বলে উল্লেখ রয়েছে। এই বার্তাটি মূলত পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং জনসাধারণের জন্য নয়।
অডিচির মুখপাত্র ওমাওমি ওগবে, বার্তাটি লিক হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে, তবে এতে উল্লিখিত ত্রুটিগুলোকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যোগ করেন, পরিবারটি এই ঘটনার মাধ্যমে সিস্টেমিক সমস্যাগুলো উন্মোচন করতে চায়।
ইউরাকেয়ার হাসপাতালের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেডেশন ও অক্সিজেন সরবরাহের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়েছে। তারা কোনো অবহেলা ঘটেছে বলে কোনো প্রমাণ না থাকলে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীর নিরাপত্তা ও মানদণ্ডের গুরুত্ব নিয়ে এই ঘটনা পুনরায় আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা বিশেষ যত্নের অধিকারী এবং কোনো ত্রুটি হলে তা দ্রুত সনাক্ত ও সংশোধন করা উচিত।
এই ঘটনার পর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের কার্যক্রমের উপর তদারকি বাড়ানোর কথা প্রকাশ করেছে। তারা রোগীর অধিকার রক্ষার জন্য কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, নকানুর মৃত্যুতে অক্সিজেনের অভাব এবং অতিরিক্ত সেডেশন প্রধান কারণ। তবে হাসপাতালের দৃষ্টিকোণ থেকে, রোগীর অবস্থার তীব্রতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেবা প্রদানকে যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই বিষয়টি বর্তমানে মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রোগীর নিরাপত্তা, হাসপাতালের দায়িত্ব এবং তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে।
অবশেষে, নকানুর পরিবার এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তারা আশা করে, তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।



