20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামালয়েশিয়ার রাউব শহরে দুড়িয়ান রপ্তানি চীনের বিশাল চাহিদা চালিত

মালয়েশিয়ার রাউব শহরে দুড়িয়ান রপ্তানি চীনের বিশাল চাহিদা চালিত

মালয়েশিয়ার রাউব শহরে দুড়িয়ান চাষ ও রপ্তানি এখন স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এই শহরটি ১৯শ শতাব্দীতে স্বর্ণখনি হিসেবে পরিচিত ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ‘মুসাং কিং’ দুড়িয়ানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ফলের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে।

২০২৪ সালে চীন দুড়িয়ান আমদানি ক্ষেত্রে রেকর্ড ভাঙে, মোট $৭ বিলিয়ন (প্রায় £৫.২ বিলিয়ন) ব্যয় করে। এটি ২০২০ সালের তুলনায় তিনগুণ বেশি এবং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী দুড়িয়ান রপ্তানির ৯০% এর বেশি চীনেই পৌঁছে। এই বিশাল পরিমাণের চাহিদা রাউবের মতো ছোট শহরগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক রঙ এনেছে।

রাউবের ফ্রেসকো গ্রিন নামের রপ্তানি সংস্থার ব্যবস্থাপক চি সেং ওয়ং উল্লেখ করেন, চীনের জনসংখ্যার মাত্র ২% দুড়িয়ান কিনলেও তা যথেষ্ট ব্যবসা তৈরি করে। তিনি অতীতের একটি পরিবর্তনও তুলে ধরেন; ১৯৯০-এর দশকে অর্থনৈতিক মন্দার সময় কৃষকরা তেল পাম চাষের জন্য দুড়িয়ান গাছ কেটে ফেলতেন। এখন একই কৃষকরা তেল পাম গাছ কেটে আবার দুড়িয়ান চাষে ফিরে আসছেন, যা স্থানীয় আয় বাড়াচ্ছে।

মুসাং কিং দুড়িয়ান তার সমৃদ্ধ স্বাদ ও মাখনসদৃশ গঠন জন্য চীনা বাজারে ‘হার্মেস অফ দুড়িয়ান’ নামে পরিচিত। যদিও এর গন্ধকে কিছু লোক ‘ক্যাবেজ, গন্ধক এবং স্যুয়ারের মিশ্রণ’ বলে বর্ণনা করেন, তবু এর স্বাদকে ‘বিটার-সুইট’ হিসেবে প্রশংসা করা হয়। গন্ধের তীব্রতা এমন যে, কিছু পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং হোটেলগুলোতে দুড়িয়ান বহন নিষিদ্ধ। একবার একটি বিমানও গন্ধের অভিযোগে গ্রাহকদের আপত্তি জানার পর মাটিতে অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

দুড়িয়ানকে প্রায়শই ‘ফলরাজা’ বলা হয়, তবে অনলাইন আলোচনায় এটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে গন্ধযুক্ত ফল’ হিসেবে উল্লেখিত হয়। তবু পর্যটক ও স্থানীয় ভোক্তারা এই ফলের স্বাদে মুগ্ধ হয়ে, কখনও কখনও অস্বস্তিকর গন্ধের সত্ত্বেও, ক্রয় ও স্বাদগ্রহণে আগ্রহী হন।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীনের দুড়িয়ান চাহিদা ভবিষ্যতেও বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের মধ্যে এই ফলের মর্যাদা বাড়ছে। তবে গন্ধ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রপ্তানির খরচ বাড়াতে পারে। তাছাড়া, দুড়িয়ান চাষের জন্য নির্দিষ্ট জলবায়ু ও মাটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যা উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের প্রয়োজন তৈরি করে।

রাউবের স্থানীয় সরকার দুড়িয়ান শিল্পকে সমর্থন করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও রপ্তানি সুবিধা প্রদান করছে। নতুন রোড, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানি প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে। একই সঙ্গে, দুড়িয়ান চাষে টেকসই পদ্ধতি গ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যাতে পরিবেশগত প্রভাব কমে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে।

সারসংক্ষেপে, রাউবের দুড়িয়ান শিল্প চীনের বিশাল বাজারের দিকে মুখ করে দ্রুত সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। উচ্চ রপ্তানি মূল্য ও চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের উৎস তৈরি করেছে, যদিও গন্ধ সংক্রান্ত নিয়ম ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সতর্কতা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে দুড়িয়ানের আন্তর্জাতিক চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাউবের অর্থনৈতিক কাঠামোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments