চেলসি ফুটবল ক্লাবের নতুন প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ম্যাচে এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে চার্লটন অ্যাথলেটিককে ৫-১ স্কোরে পরাজিত করে জয়লাভ করেন। এই জয়টি ক্লাবের বর্তমান অবস্থা ও ভক্তদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের মাঝেও অর্জিত হয়েছে।
ম্যাচটি লন্ডনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চেলসির রিজার্ভ দলই প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রথমার্ধে চেলসি তিন গোলের সুবিধা নিয়ে এগিয়ে যায়, এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল যোগ করে স্কোরকে ৫-১ করে তোলেন। চার্লটনের একমাত্র গোলটি দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে হয়।
রোজেনিয়রের দলটি নিয়ন্ত্রণমূলক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলা দেখায়, যদিও তিনি মূল দল নয়, বরং দ্বিতীয় স্তরের খেলোয়াড়দের দিয়ে ম্যাচটি পরিচালনা করেন। কোচের কৌশলগত পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট ছিল, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ক্লান্তি কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক চাপ বাড়ানো।
দ্বিতীয়ার্ধে রোজেনিয়র ৩-১ স্কোরে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ব্রাজিলীয় উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ানকে মাঠে নামিয়ে দেন। এস্তেভাওকে তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এবং তার দৌড় ও পাসগুলো চার্লটনের রক্ষণকে অস্থির করে দেয়। যদিও তিনি ম্যাচে গোল করেননি, তার উপস্থিতি আক্রমণকে ত্বরান্বিত করে।
ম্যাচের সময় চেলসির ভ্রমণকারী সমর্থকগণ থেকে তীব্র প্রতিবাদ শোনা যায়। প্রথম মিনিটেই রোমান আব্রামোভিচের নাম ডাকার চিৎকার শোনা যায়, এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের প্রতি তীব্র সমালোচনা করা হয়, যা ক্লাবের বর্তমান মালিকানা গঠনকে নির্দেশ করে। এই ধরনের মন্তব্যগুলো ভক্তদের দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষের প্রতিফলন।
ক্লাবের মালিকানা ২০২২ সালে টড বোলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল দ্বারা অর্জিত হয়, এবং প্রায় চার বছর পরেও ভক্তদের মধ্যে প্রকল্পের প্রতি সন্দেহ অব্যাহত রয়েছে। মালিকদের পরিচালনামূলক নীতি ও আর্থিক কৌশলকে নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক চলছে, যা ম্যাচের ফলাফলের পরেও কমে না।
লিয়াম রোজেনিয়র হলেন টড বোলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল অধিগ্রহণের পর চেলসির পঞ্চম প্রধান কোচ। তিনি ছয় ও অর্ধ বছরের চুক্তিতে সই করেছেন, এবং তার নিয়োগটি অস্বাভাবিক, কারণ তিনি একই মালিকানাধীন স্ট্রাসবুর্গ থেকে মাঝ-সিজনে চলে আসেন। এই পটভূমি তাকে কিছু ভক্তের চোখে মালিকের পুতুল হিসেবে চিহ্নিত করে।
ক্লাবের পূর্বের কোচ এনজো মারেস্কার প্রস্থানও বিশৃঙ্খলভাবে ঘটেছিল, যার ফলে বোর্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। এই ঘটনা থেকে কিছু বিশ্লেষক চেলসিকে অস্থির ও পরিচালনায় অক্ষম বলে সমালোচনা করেন। রোজেনিয়রের আগমন সত্ত্বেও এই চিত্রটি পুরোপুরি বদলায়নি।
সারসংক্ষেপে, চেলসির ৫-১ জয় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হলেও, ভক্তদের মধ্যে চলমান বিরোধ ও মালিকানার প্রতি অবিশ্বাসকে দূর করতে যথেষ্ট নয়। ক্লাবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা না থাকলে, সমর্থকদের সমর্থন অর্জন করা কঠিন হবে।



