যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ জানুয়ারি শনিবার ট্রুথসোশ্যালের মাধ্যমে একটি বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ইরানের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রকাশ করেন এবং এই লক্ষ্যে সহায়তা দিতে দেশ প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইরান স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই পথে সহায়তা করতে ইচ্ছুক। এই মন্তব্যটি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী প্রতিবাদগুলোর ১৪তম দিনে প্রকাশিত হয়।
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন গত দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে চালু রয়েছে এবং ১৪তম দিনে পৌঁছেছে। প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন সত্ত্বেও রাস্তায় নেমে বিভিন্ন শহরে দাবি জানাচ্ছেন।
তেহরানের কেন্দ্রস্থল এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় বড় আকারের সমাবেশ দেখা গেছে। শহরের প্রধান সড়ক ও চত্বরগুলোতে হাজারো মানুষ একত্রিত হয়ে সরকারকে পরিবর্তনের আহ্বান জানাচ্ছেন।
তেহরানের পূর্বাঞ্চলীয় চিতগার পার্কে বিশেষভাবে বিশাল ভিড় গড়ে উঠেছে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা শাসনবিরোধী স্লোগান উচ্চস্বরে উচ্চারণ করে এবং অতীতের শাসক শাহী পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
প্রতিবাদকারীরা শাহী রাজবংশের ক্ষমতাচ্যুতি ও নির্বাসনকে সমালোচনা করে বিভিন্ন স্লোগান গুঞ্জন করছেন। এই স্লোগানগুলোতে শাহী শাসনের অবসান এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দাবি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা “গাজা নয়, লেবানন নয়, আমার জীবন ইরানের জন্য” এমন স্লোগানও উচ্চারণ করেন, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি তাদের দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রকাশনা ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাগরিক সমাজের অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছে, এবং এখন এই সমর্থনকে আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নকে উত্সাহিত করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়নি।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী এখনও প্রতিবাদকে দমন করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে, এবং পরিস্থিতি তীব্রতা বজায় রেখেছে। প্রতিবাদকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও রাস্তায় উপস্থিতি বজায় রাখছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমর্থনের সম্ভাব্য প্রভাবকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন। পরবর্তী সপ্তাহে কী ধরনের কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
এই পর্যায়ে, ইরানের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়ই পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সম্ভাব্য সমাধানের দিকে নজর রাখছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন একটি নতুন পরিবর্তনের সূচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



