অভিনয় জগতের পরিচিত মুখ টি.কে. কার্টার, ৬৯ বছর বয়সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ডুয়ার্টে তার বাসায় শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫:৪২ টায় ৯১১ নম্বরে জরুরি কলের পর তার দেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে কোনো অপরাধমূলক সূত্র পাওয়া যায়নি এবং মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
কার্টার ১৯৫৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটিতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের বেশিরভাগ সময় তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান গ্যাব্রিয়েল ভ্যালিতে কাটান, যেখানে তিনি স্থানীয় স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ গড়ে ওঠে।
১৯৭৬ সালে তিনি টেলিভিশন জগতে প্রবেশ করেন, এনবিসির অপরাধ নাটক ‘পুলিশ উমেন’ এ প্রথম ভূমিকা পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে পরবর্তী দশকের বিভিন্ন সিরিজে কাজের সুযোগ এনে দেয়।
১৯৮২ সালে জন কার্পেন্টারের হরর ক্লাসিক ‘দ্য থিং’ এ রোলার-স্কেটিং শেফ নলসের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশাল স্বীকৃতি অর্জন করেন। কুর্ট রাসেলসহ প্রধান অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করা এই ছবিটি তার ক্যারিয়ারের মাইলফলক হয়ে ওঠে।
পরবর্তী বছরেই তিনি এবিসি সিটকম ‘জাস্ট আওয়ার লাক’ এ রিচার্ড গিলিল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেন, যেখানে তার কমেডি দক্ষতা প্রকাশ পায়। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি এনবিসির জনপ্রিয় শো ‘পাঙ্কি ব্রেস্টার’ এর প্রথম দুই সিজনে মাইক ফুলটন চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন।
১৯৯৬ সালে ‘স্পেস জ্যাম’ ছবিতে তিনি মনস্টার নটের কণ্ঠ প্রদান করেন, যা তরুণ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া জাগায়। এই ভূমিকা তাকে অ্যানিমেশন ও ভয়েস ওয়ার্কের নতুন দিগন্তে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
তার কাজের পরিসর টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে বিস্তৃত। তিনি ‘গুড টাইমস’, ‘দ্য ওয়ালটনস’, ‘দ্য জেফারসনস’, ‘২২৭’, ‘গুড মর্নিং, মিস ব্লিস’, ‘ফ্যামিলি ম্যাটারস’, ‘দ্য সিনবাড শো’, ‘মোশা’, ‘দ্য স্টিভ হ্যাভারি শো’, ‘দ্য ন্যানি’, ‘সিমস লাইক ওল্ড টাইমস’, ‘সাউদার্ন কমফোর্ট’, ‘ডক্টর ডেট্রয়েট’, ‘স্কি প্যাট্রল’ এবং ‘মাই ফেভারিট মার্টিয়ান’ সহ বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিক ও ছবিতে অংশগ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি পুনরায় বড় পর্দায় ফিরে আসেন। ২০২০ সালে বেন আফ্লেকের সঙ্গে ‘দ্য ওয়ে ব্যাক’ ছবিতে কাজ করেন, যেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন। ২০২২ সালে ‘ফেক ফ্রেন্ডস’ ছবিতে তার পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়।
২০২৩ সালে তিনি স্ট্রিমিং সিরিজ ‘দ্য কোম্পানি ইউ কিপ’ এ তিনটি পর্বে অভিনয় করেন, যেখানে মাইলো ভেন্টিমিগ্লিয়া প্রধান চরিত্রে ছিলেন। একই বছর তিনি র্যাপার লিল ডিকির সিটকম ‘ডেভ’ এ পাঁচটি পর্বে উপস্থিত হয়ে তার কমেডি দক্ষতা পুনরায় প্রদর্শন করেন।
তার ক্যারিয়ার জুড়ে টি.কে. কার্টার বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, হরর থেকে কমেডি, ভয়েস ওয়ার্ক থেকে নাট্যভিত্তিক নাটকে। তিনি শিল্পের বহু প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন।
পরিবারিক দিক থেকে তিনি তার স্ত্রী জ্যানেট কার্টারের সঙ্গে বিবাহিত ছিলেন, যিনি তার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাশে ছিলেন। তার মৃত্যুর শোক প্রকাশে সহকর্মী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে সমবেদনা জানিয়েছেন।
অভিনয় জগতের এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের বিদায় নিঃসন্দেহে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার অবদান ও স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরস্থায়ী থাকবে।



