গতকাল সন্ধ্যা প্রায় আটটায় নরায়ণগঞ্জের বান্দর উপজেলা অবস্থিত আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বয়লার থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের ফলে কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন সাতজন শ্রমিকের শারীরিক ক্ষতি হয় এবং তারা তীব্র পোড়া পায়।
বিস্ফোরণের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী ফেরদৌস, ২৫ বছর বয়সী রাকিব, ২৮ বছর বয়সী মঞ্জু, ২১ বছর বয়সী তারেক, ৩০ বছর বয়সী বাবুল, ২৮ বছর বয়সী খোরশেদ এবং ৩৫ বছর বয়সী হাবিব। সকলকে সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শিকলিত শ্রমিকদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে ভর্তি করা হয়। সেখানে তারা জরুরি চিকিৎসা পায় এবং শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ডাঃ শাওন বিন রহমান, জরুরি বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জন, জানান যে আক্রান্তদের দেহে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ত্বকে পোড়া চিহ্ন দেখা গেছে। তাছাড়া তিনজনের শ্বাসনালীর ক্ষতিও রেকর্ড করা হয়েছে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও শ্বাসনালীর ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায় বয়লারটি কাজের সময় হঠাৎ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, যা কর্মীদের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ঘটেছে। ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপনা তদন্তে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশনা পেয়েছে।
অধিকারের দায়িত্বে থাকা সংস্থা দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য বয়লারের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ নথি পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ধরনের শিল্পক্ষেত্রের দুর্ঘটনা শ্রমিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি-নিয়মের কঠোর প্রয়োগের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সান্ত্বনা জানিয়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা যাচ্ছে। কর্মীদের পরিবার ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে বয়লার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা চেকের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হবে এবং কর্মীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।
এই ঘটনার পর, শ্রমিক ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে এবং সরকারকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, নরায়ণগঞ্জের আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে বয়লার বিস্ফোরণে সাতজন শ্রমিক গুরুতর পোড়া পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শারীরিক ক্ষতি, চিকিৎসা অবস্থা এবং ঘটনার পরবর্তী তদন্তের প্রক্রিয়া এখনো চলমান, যা ভবিষ্যতে শিল্পক্ষেত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



