অনু-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্যায়ে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়। টস হারে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাটিং করে, তবে বৃষ্টির তীব্রতা খেলাকে বাধাগ্রস্ত করে। ৩৬.৩ ওভারে দল ১৫২ রান করে ৭ উইকেট হারায় এবং ম্যাচটি রেইন‑অ্যাব্যান্ডের কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
বাতাসে ভেজা মাঠে দলটি শুরুরই ঝাঁকুনিতে দুই ওপেনারই দ্রুত আউট হয়ে যায়। জাওয়াদ আবরা এবং রিফাত বেগকে আলি রাজার বামহাতি পেসার তিনটি উইকেটের মধ্যে দুজনই গৃহীত করে। আলি রাজার পারফরম্যান্স দলের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী ছিল; তিনি উমার জাইব, মোহাম্মদ সাইয়াম এবং মমিন কামারকে আউট করে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন।
ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম শুরুর পাঁচ বলের মধ্যে মাত্র তিন রান করে উমার জাইবের ক্যাচে আউট হন, ফলে দলের শুরুর শক বাড়ে। এরপর রিজান হোসেন ও কালাম সিদ্দিকি মাঝারি গতি নিয়ে দৌড়ে ৪৮ রান জোড়া গড়ে তোলেন। রিজান ১৮ রান করেন ৩২ বলে এবং একটি ক্যাচও নেন, আর কালাম ৯৮ বলে ৭১* রান করে দলকে এককভাবে অর্ধেকের কাছাকাছি নিয়ে যান।
মিডল‑অর্ডার থেকে শাহরিয়ার আহমেদ ও ফরিদ হাসান যথেষ্ট সমর্থন দিতে পারেননি; শাহরিয়ার ২৫ বলে ৮ রান এবং ফরিদ ৩০ বলে ৯ রান করে দলের মোট স্কোরে সামান্যই যোগ করতে পারলেন। মধুয়ান আবদুল্লাহের আউট হওয়ার পর সামিউন বাশির ব্যাটিংয়ে প্রবেশ করেন, তবে বৃষ্টির হঠাৎ বৃষ্টিপাতের আগে তিনি কোনো উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে পারেননি।
পাকিস্তানের বোলাররা সামগ্রিকভাবে ভাল প্রস্তুতি দেখিয়েছে, বিশেষ করে আলি রাজার বামহাতি পেসিং দলকে দ্রুত চাপে ফেলতে সাহায্য করে। তার পরপর তিনটি উইকেটের মধ্যে দুইটি শীর্ষ ব্যাটসম্যানের আউট হওয়া দলকে বড় ধাক্কা দেয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করা সত্ত্বেও, বৃষ্টির কারণে তাদেরও পুরো ইনিংস শেষ করার সুযোগ না পেয়ে ম্যাচটি অর্ধেকেই থেমে যায়।
ম্যাচের শেষের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে পানি জমে যায়, ফলে অম্পায়াররা খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন। উভয় দলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়; যদিও বাংলাদেশে কালাম সিদ্দিকির অর্ধশতক পারফরম্যান্স প্রশংসনীয়, তবে সামগ্রিক ব্যাটিং ব্যর্থতা দলকে অগ্রগতিতে বাধা দেয়।
পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ মঙ্গলবার হারারে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি দলের কৌশলগত সমন্বয় এবং ব্যাটিং ফরমে উন্নতি আনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’ তে বাংলাদেশ ১৭ জানুয়ারি বুলাওয়ায়ে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে, এরপর নিউ জিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
এই প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল দলকে দেখিয়েছে যে বৃষ্টির মতো অপ্রত্যাশিত পরিবেশে কিভাবে দ্রুত মানিয়ে নিতে হয় এবং কীভাবে মূল খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নির্ভরশীলতা বাড়াতে হয়। কোচিং স্টাফের জন্য এখনই সময় হয়েছে ব্যাটিং লাইনআপে সমন্বয় আনা এবং বোলিং ইউনিটকে আরও ধারাবাহিকতা প্রদান করা, যাতে আসন্ন বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হয়।



