সেল্টিক ক্লাব স্কটল্যান্ডের প্রিমিয়ারশিপে ডানডি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে বড় জয় অর্জন করেছে। ম্যাচের শেষে কোচ মার্টিন ও’নিল দলকে প্রশংসা করে বললেন, খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে এবং ফলাফল স্বাভাবিক ছিল। তবে তিনি দলকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন খেলোয়াড়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
প্রথমার্ধে সেল্টিকের আক্রমণ দ্রুত গতি পায়। পাঁচ মিনিটের মধ্যে ইয়াং হ্যুন-জুন এবং আর্নে এঙ্গেলস দুজনেই গোল করে দু’গোলে এগিয়ে যায়। উভয় গোলই সুনির্দিষ্ট পাসের ফল, যা ডিফেন্সকে অপ্রস্তুত রাখে। প্রথমার্ধের শেষের দিকে লিয়াম স্কেলসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ওয়েন স্টার্টনের শটকে থামিয়ে দেয়, যা দলের রক্ষার দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে সেল্টিকের গতি বজায় থাকে। বেনজামিন নাইগ্রেন পরিবর্তন হয়ে মাঠে নামার পর দ্রুতই স্কোর বাড়ায়। এরপর দাইজেন মায়েদা তৃতীয় গোলের দায়িত্ব নেয় এবং দলকে ৪-০ পর্যন্ত নিয়ে যায়। ও’নিলের মতে, এই চারটি গোলই দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং ম্যাচের ধারাকে সম্পূর্ণভাবে তাদের পক্ষে পরিবর্তন করেছে।
কোচ ও’নিল ম্যাচের পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি লিয়াম স্কেলসের ডিফেন্সিভ কাজকে প্রশংসা করে বললেন, “যদি আত্মবিশ্বাস ভঙ্গুর হয়, তবে এমন মুহূর্তে প্রতিপক্ষের সুবিধা বাড়ে।” এছাড়াও তিনি জুলিয়ান আরাউজোর শেষ মুহূর্তের ট্যাকল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা উইল ফেরির ওপর করা হয় এবং সম্ভাব্য রেড কার্ডের ঝুঁকি তৈরি করে। যদিও শেষ পর্যন্ত আরাউজো রেড কার্ড পাননি, ও’নিলের মন্তব্যে দলকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এই জয় সেল্টিকের জন্য বিশেষ কারণ এটি কোচের তত্ত্বাবধানে প্রথম ক্লিন শিট, যা তার শেষ ক্যারেটেকার দায়িত্বের পর থেকে অর্জিত। একই সঙ্গে দলটি এই মৌসুমের সর্ববৃহৎ জয়ের সমান রেকর্ড তৈরি করেছে, যা ও’নিলের নেতৃত্বে অর্জিত। তবে ট্রান্সফার উইন্ডোতে দল কোনো নতুন খেলোয়াড় যোগ করতে পারেনি, ফলে ও’নিল জানিয়েছেন, “আমি আশা করছি শীঘ্রই কিছু নতুন মুখ আসবে, যদিও পরিস্থিতি কখনও কখনও বদলে যায়।” তিনি জোর দিয়ে বললেন, মূল খেলোয়াড়দের আঘাত হলে দলটি গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
সেল্টিকের পাশাপাশি স্কটল্যান্ডের অন্য একটি ম্যাচে হিবার্নিয়ান এবং মাদারওয়েল ১-১ ড্র করে। কিয়েরন বাওয়ি হিবার্নিয়ানের পক্ষে সমতা রক্ষার জন্য সমান গোল করেন। প্রথমার্ধে উভয় দলই ধীর গতি দেখায়, তবে দ্বিতীয়ার্ধে গেমের গতি বাড়ে। মাদারওয়েলের তাওয়ান্ডা মাসওয়ানহিসে এই ম্যাচে তার সিজনের ১৫তম গোল করেন, যা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিশ্চিত করে।
সেল্টিকের পরবর্তী ম্যাচে দলকে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে, বিশেষ করে আক্রমণ ও রক্ষণে সামনের দিকে শক্তি যোগাতে হবে। ও’নিলের মতে, নতুন খেলোয়াড়ের সংযোজন না হলে মৌসুমের শেষের দিকে দলটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। তাই ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রান্সফার বাজারে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
মোটের ওপর, সেল্টিকের ৪-০ জয় দলকে আত্মবিশ্বাসের নতুন স্তরে নিয়ে গেছে, তবে কোচের সতর্কতা এবং ট্রান্সফার সংকট দলকে ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে রাখতে পারে। হিবার্নিয়ান ও মাদারওয়েলের ড্র ম্যাচটি দেখায় যে স্কটল্যান্ডের লিগে প্রতিটি পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ, এবং প্রতিটি দলই শীর্ষে পৌঁছানোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।



