সোমবার সন্ধ্যায় এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি এক্সেটারকে ১০-১ মারাত্মক পার্থক্যে পরাজিত করে। গানা জাতীয় ফরোয়ার্ড অঁতোয়ান সেমেন্যো তার নতুন দলে প্রথম ম্যাচেই গোল করে, যা দলকে দ্রুতই শীর্ষে নিয়ে যায়।
ম্যাচটি এতিাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সিটি প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের সুযোগ সীমিত থাকে। ১২তম মিনিটে টিনেজ ডিফেন্ডার ম্যাক্স অ্যালি প্রথম গোলের স্বাক্ষর রাখে, যা সিটিকে ১-০ এগিয়ে দেয়।
২৪তম মিনিটে মিডফিল্ডার রড্রি দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শটের বাধা পেয়ে গলে, কিন্তু তার শটের পরে গড়ে ওঠা গোলের সুযোগে তিনি স্কোর করেন, ফলে সিটি ২-০ বাড়িয়ে দেয়। রড্রির এই গোলটি মে ২০২৪ পর প্রথমবারের মতো তার স্কোরবোর্ডে যুক্ত হয়।
এক্সেটারের দুজন খেলোয়াড়, জেক ডয়েল-হেজ এবং জ্যাক ফিটজওয়াটার, যথাক্রমে ৪২ এবং ৪৫তম মিনিটে নিজেরাই নিজের গলে গোল করে, যা ম্যাচের ফলাফলকে আরও স্পষ্ট করে।
সেমেন্যো দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুতই প্রভাব ফেলেন। ৪৯তম মিনিটে লুইসের ভলয়ে গোলের পর, মাত্র পাঁচ মিনিট পর, সেমেন্যো নিজেই গোল করে, ফলে সিটি ৪-০ বাড়িয়ে দেয়। তার ডেবিউ গোলটি ক্লিনিশ এবং দ্রুত গতি দিয়ে সম্পন্ন হয়।
পরবর্তী সময়ে টিজজানি রেইজেন্ডার্স ৭১তম মিনিটে পেনাল্টি এলাকার প্রান্ত থেকে বোল্ড শট দিয়ে সেভেন্থ গোলের স্বাক্ষর রাখেন। একই রাউন্ডে নিকো ও’রেইলি লুইসের ক্রস থেকে হেডার দিয়ে আটতম গোল যোগ করেন।
১৭ বছর বয়সী রায়ান ম্যাকআইডো ৮৬তম মিনিটে দূর থেকে শট মারিয়ে নয়তম গোলের মালিক হন। এক্সেটারও শেষ মুহূর্তে কিছুটা স্বস্তি পায়; জর্জ বার্চ ৯০তম মিনিটে শটের মাধ্যমে একক গোল করে, যা দলের একমাত্র স্কোর হয়ে থাকে।
ম্যাচের শেষের দিকে, লুইস অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি গোল করে, ফলে স্কোর ১০-১ হয়ে যায়। এই ফলাফল সিটির ১৯৮৭ সালের হাডার্সফিল্ডের বিরুদ্ধে ১০-০ জয়ের পর সর্বোচ্চ পার্থক্য। তদুপরি, ২০১৯ সালে বার্টনে ৯-০ জয়ও স্মরণীয়।
গুয়ার্দিওলা এই ম্যাচে এক ম্যাচের সাসপেনশনের কারণে টাচলাইন থেকে দূরে ছিলেন, তবে দলীয় তালিকায় তার প্রভাব স্পষ্ট। তিনি ছয়জন খেলোয়াড় পরিবর্তন করে শক্তিশালী শটগান লাইনআপ গঠন করেন, যার মধ্যে রয়েছে সুপরিচিত ফরোয়ার্ড এরলিং হাল্যান্ড। সিটি এই জয় দিয়ে চারটি ধারাবাহিক প্রতিযোগিতায় প্রথম বিজয় অর্জন করে।
সেমেন্যোর এই ডেবিউ গল এবং রড্রির দীর্ঘ সময়ের পর ফিরে আসা স্কোরবোর্ডে নাম, দলকে নতুন মৌসুমের সূচনায় আত্মবিশ্বাস প্রদান করে। ট্রান্সফার উইন্ডোতে সেমেন্যো ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বোর্নমাউথ থেকে সিটিতে যোগদান করেন, যেখানে লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহ্যামসহ বেশ কয়েকটি ক্লাবের আগ্রহ ছিল। তার চুক্তির বায়আউট ক্লজ শনিবারের পর শেষ হওয়ার কথা, যা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করে।
সিটি এখন এফএ কাপের পরবর্তী রাউন্ডে কীভাবে অগ্রসর হবে, তা সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রে। দলটি শীঘ্রই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, যেখানে গার্ডিওলার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করতে হবে।



