ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ দিনগুলোতে মাত্র ৩১ দিন বাকি, এবং সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনের পরই নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তবে সংসদ সচিবালয়ের সংস্কার কাজ এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়, ফলে অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সব কাজ শেষ করা কঠিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার গত বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করলেও, তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি এবং মঙ্গলবার সংস্কার অগ্রগতি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংসদ ভবনের উচ্চকক্ষের অবস্থান নির্ধারণের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, ফলে প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উচ্চকক্ষের নকশা ও পরিকল্পনা এখনও অনিশ্চিত থাকায়, ভবনের মূল কাঠামো পরিবর্তন না করে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময়সীমা মিস হলেও আগামী অধিবেশনের আগেই বেশিরভাগ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। তারা উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত প্রচেষ্টা ও ত্বরিত কাজের মাধ্যমে সময়সীমা কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে একই সঙ্গে মধ্যম স্তরের কিছু কর্মকর্তা জানান, পুরো সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এখনও বেশ কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যার মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অফিস, অধিবেশন কক্ষ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন আসবাব ও আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। ছাত্র-জনতার প্রবেশের সময় পার্লামেন্টের চেয়ার, কার্পেট, গ্লাসসহ মূল্যবান আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মেরামত ও পুনর্নির্মাণে অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ দরকার।
লুই আই. কাহনের মূল নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে মেরামত কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তবে ঐতিহ্যবাহী নকশা রক্ষা করার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসরণ করা হচ্ছে। এই কারণে কাজের গতি ধীর হতে পারে, তবে নকশার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এটি অপরিহার্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাজেট সংক্রান্ত সমস্যাও সংস্কার কাজের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কাজ স্থগিত হয়েছে, এবং নতুন ঠিকাদার সংস্থাগুলি রাজনৈতিক পরিচয়ের রেফারেন্স দিয়ে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের সূত্রে জানা যায়, সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে চললেও অধিবেশন কক্ষ, স্পিকারের অফিস এবং অন্যান্য প্রধান ব্লকে নতুন আসবাব ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের কাজ এখনও বাকি। এই ঘাটতি পূরণ না হলে নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় কার্যকরী সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষিত নির্বাচনি রোডম্যাপ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই সংস্কার কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য অতিরিক্ত তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
অধিকাংশ কর্মকর্তা আশা করছেন, জানুয়ারি শেষের মধ্যে অধিবেশন কক্ষসহ প্রধান ব্লকের কাজ সম্পন্ন হবে, যাতে নির্বাচনের পরপরই সংসদ কার্যক্রম শুরু করা যায়। তবে সম্পূর্ণভাবে স্মার্ট পার্লামেন্টের রূপে গড়ে তুলতে আরও কয়েক মাসের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
সংসদ ভবনের সংস্কার প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে, যা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ক্ষতির পরিমাণের কারণে সরকারকে অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে উল্লিখিত হয়েছে, নতুন ঠিকাদার সংস্থাগুলি কাজের গুণমান নিশ্চিত করতে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করবে, তবে রাজনৈতিক সংযোগের কারণে কিছু সন্দেহের মুখে পড়তে পারে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতে কাজের গুণমান ও সময়সীমা বজায় রাখতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত কর্মী ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এই পরিকল্পনাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। তাই সরকারকে আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে।
সংসদ ভবনের সংস্কার কাজের শেষ তারিখ নির্ধারণের জন্য এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমান করা যায়, নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে সব কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হবে।
এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সংসদীয় কার্যক্রমের সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে, এবং ভবিষ্যতে পার্লামেন্টের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে।



