বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, পরিচালক আসিফ আকবরের বিশ্বকাপ নিয়ে মন্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ দলকে ভারতের বাইরে বিশ্বকাপের ম্যাচে অংশগ্রহণের ইচ্ছা এখনও অটল।
বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দলের ভারত ভ্রমণ না করার বিষয়টি গত কয়েকদিনে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নেয়। বোর্ডের বিভিন্ন সদস্য বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের অবস্থান প্রকাশ করে আসছেন, তবে মূল লক্ষ্য একই – আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
শুক্রবার রাতে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জিএনসি স্কুল ক্রিকেট’ টুর্নামেন্টের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে আমিনুলকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানটি বিসিবি আঞ্চলিক ক্রিকেট সেন্টারের আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
উন্মোচন অনুষ্ঠানের পর মিডিয়ার প্রশ্নে আমিনুলকে জিজ্ঞেস করা হয়, “আসিফ আকবর বলেছেন, যদি আমরা কোনো বিশ্বকাপ না খেলি, তবে কিছুই হয় না; আপনার কি একই মত?” তিনি উত্তর দেন, এমন কোনো মন্তব্যের কথা তিনি জানেন না।
এরপর তিনি যোগ করেন, বিশ্বকাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, বাংলাদেশ দল চেষ্টা করবে অংশ নিতে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, “সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ।”
বিসিবি এখনো আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক উত্তর পায়নি। তারা জানায়, প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং আইসিসির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। আইসিসির ডেভেলপমেন্ট বিভাগে দীর্ঘদিন কাজ করা একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা অনুমান করেন, সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচের ভেন্যু হিসেবে কলকাতা নির্বাচিত হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। অন্য কোনো ভারতীয় শহরে ম্যাচের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, আমিনুল তা প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতের অন্য ভেন্যুও ভারতেই, তাই ভেন্যু বড় কথা নয়।” সব ভারতীয় ভেন্যুই একই দেশের অধীনে, তাই স্থান নির্বাচন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা প্রয়োজন নেই।
বিসিবি একতরফা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না; সরকারী দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন হয়নি, এবং তারা সেই অবস্থানে অটল রয়ে যাবে।
আইসিসি যদি বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন করে, তবে তা তার স্বার্থের বিরোধী হবে বলে আমিনুলের ধারণা। তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে একটি বড় দল, যা গত ২৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমি‑ফাইনাল, ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার‑ফাইনাল পৌঁছানো ইত্যাদি সাফল্যকে তিনি দলটির শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। উপমহাদেশে টুর্নামেন্টের আয়োজনের ফলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া সম্ভব, এ কথাও তিনি জোর দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরে যে টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে, তা এখনও সমাধান হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও ভেন্যু সংক্রান্ত স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া গেলে, দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার পথ সুগম হবে।



