22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিএনবিআর চেয়ারম্যান ট্যাক্স ফাঁকি মানে ১৮ কোটি জনগণকে ফাঁকি দেওয়া বলে সতর্ক

এনবিআর চেয়ারম্যান ট্যাক্স ফাঁকি মানে ১৮ কোটি জনগণকে ফাঁকি দেওয়া বলে সতর্ক

নারায়ণগঞ্জের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতের আয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান ট্যাক্সের গুরুত্ব ও ফাঁকির প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্যাক্স হল জনগণের অধিকার, কারণ এই অর্থ সরকারী কোষে জমা হয় এবং দেশের ১৮ কোটি নাগরিকেরই মালিকানা। ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া মানে সরাসরি এই ১৮ কোটি মানুষকে ধোঁকা দেওয়া, যা নৈতিক দায়িত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।

এই অনুষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সুবর্ণজয়ন্তী ও ২০২৫-২০২৬ সালের অভিষেক অনুষ্ঠান হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মালিক সোহেল সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আলী জিন্নাহ খান এবং এনবিআর সদস্য একেএম বদিউল আলম, ব্যারিস্টার মতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, নারায়ণগঞ্জ কর কমিশনার রওশন আখতার, নারায়ণগঞ্জ ট্যাক্স ল‘ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. মাজম আলী খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যানের বক্তব্যে তিনি ট্যাক্স ফাঁকি এবং নৈতিক দায়িত্বের সম্পর্ককে উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন। “একজন মানুষকে ঠকানোর পর যখন আপনার বোধ হয় আপনি ঠকিয়েছেন তখন তার কাছে মাফ চাইতে পারেন। ওই ব্যক্তি যদি মারা যায় তাহলে ওই জেনারেশনের কাছে মাফ চাইতে পারবেন। কিন্তু আপনি যখন দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ঠকাবেন তখন কতজনের কাছে আপনি মাফ চাইবেন। আপনি কিন্তু এই মাফ পাবেন না,” তিনি বলেন। এই কথাগুলো ট্যাক্স ফাঁকি মোকাবিলার জন্য কঠোর আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

চেয়ারম্যানের মতে, ট্যাক্সের সঠিক সংগ্রহ দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের ভিত্তি এবং তা না হলে জনসেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণের ব্যয় প্রভাবিত হবে। তিনি সকল করদাতাকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ট্যাক্স ফাঁকি রোধে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব জোর দেন।

অনুষ্ঠানের সময় উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারাও ট্যাক্স ফাঁকি মোকাবিলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। নারায়ণগঞ্জ কর কমিশনার রওশন আখতার উল্লেখ করেন, ট্যাক্স ফাঁকি শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, তা সামাজিক ন্যায়বিচারকেও ক্ষুণ্ন করে। তিনি করদাতাদের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের কথা জানান।

বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মালিক সোহেল সারোয়ারও ট্যাক্স ফাঁকি বিরোধী আইন প্রয়োগে বিচারিক ও প্রশাসনিক সংস্থার সমন্বয়কে গুরুত্ব দেন। তিনি যোগ করেন, ট্যাক্স ফাঁকি করা ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হলে করদাতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং ট্যাক্স সংগ্রহে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

এনবিআর সদস্য একেএম বদিউল আলম ট্যাক্স ফাঁকি সমস্যার সমাধানে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ডেটা বিশ্লেষণের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্যাক্সদাতার তথ্য সঠিকভাবে ট্র্যাক করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

ব্যারিস্টার মতাসিম বিল্লাহ ফারুকী আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে ট্যাক্স ফাঁকি মোকাবিলার জন্য বিদ্যমান আইনকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ট্যাক্স ফাঁকি করা সংস্থার বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ, শাস্তি বৃদ্ধি এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা উচিত।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান আবারও ট্যাক্সের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার ও সংগ্রহের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সকল করদাতাকে দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং ট্যাক্স ফাঁকি রোধে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি reaffirm করেন।

এই বক্তব্যের পর উপস্থিত সকল পক্ষ ট্যাক্স ফাঁকি মোকাবিলার জন্য যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments