নারায়ণগঞ্জের বন্দরের উপজেলায় অবস্থিত আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির বয়লার কক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় (প্রায় ৬ টা) বিস্ফোরণ ঘটায়, ফলে আটজন শ্রমিক দগ্ধ হয়। ঘটনাস্থল কদমরসুল এলাকায় অবস্থিত, এবং আহতদের প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তারা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে (NBPSI) স্থানান্তরিত হয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার কিছু কক্ষের কাঁচের পারদা ভেঙে যায়, ফলে শোবার ঘরে কাজ করছিলেন শ্রমিকদের দেহে সামান্য জ্বালা এবং কাঁচের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। আহতদের মধ্যে মো. হান্নান (৪৫), মো. মঞ্জুর (২৮), মো. হাবিব (৪৩), মো. রাকিবুল (২৫), মো. খোরশেদ (৩৫), তারেক (২৬), ফেরদাউস (৩৫) অন্তর্ভুক্ত, আর একজনের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশের ওয়েস্টার্ন রেজিওনাল অফিসার ইন চার্জ (OC) গোলাম মুক্তার আশরাফ জানান, আহতরা বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো জীবনহানির ঝুঁকি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বিস্ফোরণের ফলে গঠনমূলক ক্ষতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় দল গঠন করা হয়েছে।
আহত শ্রমিকদের প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে তাদেরকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ সার্জন শাওন বিন রহমানের তত্ত্বাবধানে আরও চিকিৎসা চালু হয়েছে। শাওন ডাঃ উল্লেখ করেন, রোগীদের শারীরিক ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে বর্তমান পর্যায়ে তারা স্থিতিশীল এবং আউট অব ডেঞ্জার (বিপদ থেকে মুক্ত) অবস্থায় রয়েছে।
আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরির একজন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, জানান যে ঘটনাটি সন্ধ্যাবেলা ঘটেছে এবং ফ্যাক্টরি তৎক্ষণাৎ জরুরি সেবা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সব আহত কর্মী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসকেরা তাদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আশাবাদী।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং বিস্ফোরণের কারণ নির্ণয়ের জন্য ফ্যাক্টরির প্রযুক্তিগত দলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বয়লার রক্ষণাবেক্ষণ বা অপারেশন সংক্রান্ত কোনো ত্রুটি ঘটেছে কিনা তা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে এধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
বন্দর থানার ওসি আশরাফের মতে, ঘটনাটি স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য শোকের কারণ, তবে দ্রুত চিকিৎসা ও সঠিক পদক্ষেপের ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তিনি স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন, তদন্তের ফলাফল জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর, শ্রমিক ইউনিয়ন ও স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন দাবি করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, শিল্পক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা না ঘটে।
সামগ্রিকভাবে, আকিজ সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ঘটিত বয়লার বিস্ফোরণ আটজন শ্রমিককে দগ্ধ করে তুলেছে, তবে দ্রুত চিকিৎসা ও প্রাথমিক সাড়া দেওয়ার ফলে কোনো প্রাণহানি হয়নি। তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃপর্যালোচনা ও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



