মার্ক জে. মাসেক, হলিউডের বিখ্যাত সেলিব্রিটিদের সমাধি নিয়ে রচিত গাইডবুকের রচয়িতা, ৬৮ বছর বয়সে নিউ ইয়ার্স ইভে ক্যালিফোর্নিয়ার আলহামব্রা শহরে নিজের বাড়িতে হৃদরোগের আক্রমণে প্রাণ ত্যাগ করেন। তার ১৯ বছর দীর্ঘ সঙ্গী জেইন ওসবর্নের মতে, মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি একা ছিলেন না; দুজনের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের শেষ অধ্যায়টি এভাবে শেষ হয়।
মাসেক ১৯৯৯ সালে শিকাগো অঞ্চল থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানান্তরিত হন এবং পুরনো চলচ্চিত্র ও ইতিহাসের প্রতি তার গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি সমাধিকে দুইটি বিষয়ের সংযোগস্থল হিসেবে দেখেছিলেন: সিনেমার স্মৃতি এবং অতীতের ইতিহাস। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ২০০১ সালে “Hollywood Remains to Be Seen: A Guide to the Movie Stars’ Final Homes” শিরোনামের বইটি প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি লস এঞ্জেলেসের চারদিকের চৌদ্দটি সমাধি নিয়ে বিশদ বিবরণ দেন।
বইটির প্রতিটি অধ্যায় একটি নির্দিষ্ট সমাধির হাঁটার পথের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যাতে পাঠকরা ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের সমাধি ঘুরে দেখতে পারেন। প্রথমে ফোরেস্ট লন গ্লেনডেল সমাধি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মাইকেল জ্যাকসন ও জিমি স্টুয়ার্টের সমাধি অবস্থিত, যা মাসেকের প্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম। পরেরটি ফোরেস্ট লন হলিউড হিলস, যেখানে বাস্টার কীটন ও ফ্রেডি প্রিন্সের সমাধি রয়েছে।
হলিউড ফোরএভার সমাধি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে টাইরন পাওয়ার, মেল ব্ল্যাঙ্ক এবং হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েলের সমাধি পাওয়া যায়। ওয়েস্টউড মেমোরিয়াল পার্কে মারিলিন মনরো ও ওয়াল্টার ম্যাথাউয়ের সমাধি রয়েছে, আর হোলি ক্রস সমাধিতে মেরি অ্যাস্টর ও বিং ক্রসবির শেষ বিশ্রামস্থল।
হিলসাইড মেমোরিয়াল পার্কে জ্যাক বেনি ও লর্ন গ্রিনের সমাধি, মাউন্ট সিনাই মেমোরিয়াল পার্কে ফিল সিলভার্স ও ব্র্যান্ডন টার্টিকফের সমাধি, এবং ওকউড মেমোরিয়াল পার্কে ফ্রেড অ্যাস্টেয়ার ও জিঞ্জার রজার্সের সমাধি উল্লেখযোগ্য। ক্যালভারি সেমেটারিতে পোলা নেগ্রি ও রামন নাভারোর সমাধি, হোম অফ পিস মেমোরিয়াল পার্কে কার্লি হাওয়ার্ড ও লুইস বি. মেয়ারের সমাধি, এডেন মেমোরিয়াল পার্কে গ্রুচো মার্ক্স ও লেনি ব্রুসের সমাধি রয়েছে।
ইনগলউড পার্ক সেমেটারিতে বেটি গ্র্যাবল ও সেজার রোমেরোর সমাধি, সান ফের্নান্দো মিশন সেমেটারিতে ওয়াল্টার ব্রেনানের সমাধি, এবং ভ্যালহালা মেমোরিয়াল পার্কে অলিভার হার্ডির সমাধি রয়েছে। এই সমাধিগুলোতে সেলিব্রিটিদের শেষ বিশ্রামস্থলকে ঘুরে দেখা পাঠকদের জন্য এক অনন্য ঐতিহাসিক ভ্রমণ তৈরি করে।
মাসেকের মতে, সবচেয়ে চিত্তাকর্ষক সমাধি হল ডগলাস ফেয়ারব্যাঙ্কস সিনিয়রের সমাধি, যা হলিউড ফোরএভার সমাধিতে অবস্থিত। সাদা মসৌলিয়ামটি রোমান স্তম্ভে সজ্জিত, সামনে ১২০ ফুট লম্বা একটি প্রতিফলিত পুকুর রয়েছে, এবং তার প্রোফাইলের ব্রাসের শিলালিপি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, চার্লি চ্যাপলিন ১৯৩৯ সালে এখানে সমাধি শোকের সময় ভাষণ দিয়েছিলেন, যা ঐ স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, হিলসাইড সমাধিতে আল জোলসনের সমাধি একটি গম্বুজাকার স্মৃতিস্তম্ভ, যার উপরে জীবন্ত মাপের মূর্তি এবং ঝর্ণার মতো প্রবাহিত জলপ্রপাত রয়েছে, যা মাসেককে মুগ্ধ করেছে। তিনি লিবার্সের সমাধি সম্পর্কেও প্রশংসা প্রকাশ করেন, যদিও তার বিশদ বর্ণনা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
মাসেকের এই কাজটি সমাধি পর্যটনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে এবং চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আগ্রহী পাঠকদের জন্য মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে। তার বইটি এখনো সেলিব্রিটি সমাধি ভ্রমণকারীদের জন্য গাইডবুক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং তার অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়।
মার্ক জে. মাসেকের অকাল মৃত্যু সেলিব্রিটি ইতিহাসের উত্সাহী পাঠক ও সমাধি অনুসন্ধানকারীদের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তার কাজের মাধ্যমে তিনি যে সমাধিগুলোকে জীবন্ত ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, সেগুলো এখনো তার স্মৃতির নিদর্শন হিসেবে রয়ে গেছে।
যারা হলিউডের স্বর্ণযুগের গল্পে মুগ্ধ, তারা মাসেকের গাইডটি অনুসরণ করে লস এঞ্জেলেসের সমাধিগুলোতে এক সফর পরিকল্পনা করতে পারেন। সমাধি ভ্রমণ কেবলই শোকের স্থান নয়, বরং শিল্পী ও সংস্কৃতির অতীতের সঙ্গে সংযোগের সেতু। তাই, যদি আপনি সিনেমার ইতিহাসে গভীরভাবে ডুবে যেতে চান, তবে এই সমাধিগুলোতে একবার হাঁটতে যাওয়া এবং মাসেকের দৃষ্টিকোণ থেকে সেলিব্রিটিদের শেষ বিশ্রামস্থলকে অনুভব করা উপকারী হবে।



