20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকিশোরগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টের পর মীমাংসা বৈঠকে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত

কিশোরগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টের পর মীমাংসা বৈঠকে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রাম‑এর পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ার মধ্যে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মীমাংসা বৈঠকে দুই দলই অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। চার ঘণ্টা চলা হিংসাত্মক সংঘর্ষে অন্তত বিশজন আহত হন, যার মধ্যে তিনজন গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল গতকাল (৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচ। ওই ম্যাচে উপজেলায় ভাটিকৃষ্ণনগর ও মধ্যচর গ্রামের যুবক দল অংশগ্রহণ করেছিল। ভাটিকৃষ্ণনগর দল দুইটি ধারাবাহিক গোল করে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের পর উভয় দলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। মাঠের ভিতরে দু’দলই একে অপরের ওপর দৌড়ে ধাওয়া‑ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা দ্রুতই হিংসায় রূপ নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঠে ঘটনার পরই গ্রামের প্রবীণ ও মাতব্বররা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে অবশিষ্ট অবিশ্বাস এবং ক্ষোভ মীমাংসা বৈঠকের মাধ্যমে সমাধান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলাভাইসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উভয় দলের প্রতিনিধিরা।

বৈঠকের সময়ই পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়া বাসিন্দারা হাতে অস্ত্র নিয়ে পুনরায় মুখোমুখি হন। হিংসা দ্রুত বাড়ে এবং প্রায় চার ঘণ্টা চলতে থাকে। ঘটনাস্থলে কয়েকটি দোকান ভাঙচুরের শিকার হয়। শেষ পর্যন্ত, উপজেলাভাইসামরিক কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভৈরব থানা ওয়াইস অফিসার মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দের মতে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই হিংসা থামাতে সক্ষম হয় এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। গুরুতর অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত সবুজ মিয়া, সাদ্দাম ও সালমান ফরাজি দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা হবে। অন্যান্য আহতরা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীন হাসপাতাল থেকে সেবা পেয়েছেন।

আইনি দিক থেকে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লিখিত হিংসা ও অস্ত্র ব্যবহারকে অপরাধমূলক কাজ হিসেবে গণ্য করে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। উক্ত অফিসার উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি পুনরায় নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি, যুবকদের জন্য বিকল্প বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রমের ব্যবস্থা করার কথা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক মীমাংসা ও আলোচনা সভা আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্টের উত্তেজনা থেকে শুরু হওয়া এই হিংসা, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সম্পূর্ণ পরিণতি এবং সংশ্লিষ্টদের আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments