ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী কীর্ণ স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে নিকট সম্পর্ক বজায় রাখার ফলে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ, বিশেষ করে লেবার পার্টির বামপন্থী সদস্যদের মধ্যে। সরকার বিদেশে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে সেগুলোকে সাধারণত সফল বলে ধরা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম—বিশেষত ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডে—স্টারমারের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলছে।
লেবার পার্টির বামপন্থী শাখা স্টারমারের ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ওপর সতর্কতা প্রকাশ করেছে। এই সতর্কতা ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে ঐতিহ্যগত বিরোধের অংশ, যা শুধুমাত্র স্টারমার ও ট্রাম্পের সময়ে সীমাবদ্ধ নয়। অতীতে ব্লেয়ারকে ইরাক যুদ্ধের সময় বুশের পোষা কুকুর বলা হয়েছিল, আর থ্যাচার ও রেগানকে একসাথে হোয়াইট হাউসে নাচতে দেখা হয়েছিল—এগুলোই একই ধরণের সমালোচনার উদাহরণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই ধরনের ঘনিষ্ঠতা মূলত একটি লেনদেনের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ট্রাম্পের মতো বিতর্কিত নেতার প্রতি আনুগত্য দেখালে বাণিজ্যিক চুক্তি সহজে সম্পন্ন হতে পারে, আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানির চাহিদা মেটাতে সুবিধা হয় এবং ইউক্রেনের সহায়তা নিয়ে আলোচনা সহজ হয়। এধরনের কূটনৈতিক সুবিধা সরকারকে ইতিবাচক ফলাফল এনে দিয়েছে, যা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রশংসা করছেন।
বৈদেশিক নীতি ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল, যিনি ব্লেয়ার যুগের পরামর্শদাতা, তার কাজকে ‘উচ্চ মানের’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লেবার পার্টির এক জ্যেষ্ঠ সদস্যের মতে, ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সরকারকে ‘অবসাদ’ এর ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, উভয় পার্টির সমালোচকরা স্টারমারের নেতৃত্বে দুর্বলতা দেখাতে পারে, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রশ্নে।
প্রতিবাদী দলগুলো সাধারণত বিদেশি নীতি বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি এই ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। স্টারমারকে এখন এমন একটি দ্বিধার মধ্যে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করতে চান, আর একই সঙ্গে দেশীয় রাজনৈতিক সমর্থন হারানোর ঝুঁকি মোকাবেলা করছেন।
এই দ্বন্দ্বের পরিণতি কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে স্পষ্ট যে, স্টারমারের ট্রাম্পের সঙ্গে নিকটতা ভবিষ্যতে পার্টির অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে তীব্র করবে এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের মতো মূল নীতিগত প্রশ্নকে আরও জটিল করে তুলবে। সরকারকে এখন কূটনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মধ্যে সঠিক সমতা রক্ষা করতে হবে, নতুবা উভয় ক্ষেত্রেই সমালোচনার শিকার হতে পারে।



