ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) শনিবার একটি সরকারি বিবৃতি জারি করে দেশের ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে ‘রেড লাইন’ বা সীমা নির্ধারণের কথা জানায়। বিবৃতিতে নিরাপত্তা রক্ষা, সরকারি সম্পদ ও জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষাকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন সতর্কতা প্রকাশ করেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানান।
বিক্ষোভের সূচনা প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনের ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হয়, তবে দ্রুতই রাজনৈতিক দাবিতে রূপান্তরিত হয়। demonstrators ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ও অধিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চায়। এই দাবি দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্তৃত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সতর্কতা এবং রুবিওর সমর্থন প্রকাশের পর IRGC-এর বিবৃতি প্রকাশিত হয়। গার্ডের মুখপাত্র রেড লাইনকে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের অর্জন রক্ষা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা জানায় যে, বর্তমান পরিস্থিতি আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার রাতেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অশান্তি অব্যাহত থাকে। তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরের একটি পৌর ভবনে বিক্ষোভকারীরা আগুন জ্বালায়, যা স্থানীয় মিডিয়া রিপোর্ট করে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শিরাজ, কোম এবং হামেদান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিহত হওয়ার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়।
রাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলে বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ও আঘাতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটিগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ গোষ্ঠী লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালানোর ঘটনা জানানো হয়। এই গুলিবর্ষণ থেকে বেশ কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরানের সরকার বিক্ষোভের উৎসকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ জানায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও জানায় যে, এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছে। সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশের জুড়ে তথ্য প্রবাহ সীমিত করার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমাঞ্চলের একটি প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে জানান, IRGC ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে এবং গুলিবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। গার্ডের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে গুলি চালিয়েছে এবং সরকারি সম্পদে আগুন জ্বালিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের অর্জন রক্ষা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা একটি ‘রেড লাইন’ এবং বর্তমান অবস্থা আর সহ্য করা যাবে না। গার্ডের পাশাপাশি ইরানের সামরিক বাহিনী, যা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরাসরি কমান্ডে পরিচালিত, জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, রেড লাইন ঘোষণার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপে তীব্রতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিক্ষোভের পরিসর সংকুচিত হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনগুলো সরকারকে অতিরিক্ত সহিংসতা ব্যবহার না করার দিকে মনোযোগ দিতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশলগত পদক্ষেপ, ইন্টারনেট সংযোগের পুনরায় চালু করা এবং রাজনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যেতে পারে।
বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা এবং সরকারী প্রতিক্রিয়া ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘রেড লাইন’ ঘোষণার পর নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ বাড়বে, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ইরানের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো ও জনমত গঠনে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই নির্ধারণ করবে।



