দিনাজপুরে শনিবার বিকেল ৪:৩০ টার দিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চারপাশে অভিযোগ উত্থাপনের জন্য জাতীয় ছাত্রশক্তি দিনাজপুর শাখা মানববন্ধন আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারীরা দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার বাতিল ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায়।
প্রতিবাদের মূল দাবি হল, নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পরীক্ষার ফলাফলকে অবৈধ বলে গণ্য করে, সকল প্রার্থীর ন্যায্য অধিকার রক্ষার জন্য পরীক্ষা অবিলম্বে বাতিলের দাবি তোলা হয়।
মানববন্ধনের আহ্বানকারী হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী অনিক উপস্থিত ছিলেন। তিনি যৌথ আহ্বায়ক হৃদয় সরকার ও তানজিম আহমেদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে সমাবেশকে নেতৃত্ব দেন। উভয়েই অনিয়মের পরিসর ও প্রভাব সম্পর্কে বিশদে ব্যাখ্যা করেন।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির নেতা ফরহাদুল ইসলাম সানি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন আহ্বায়ক একরামুল হক আবীরসহ বিভিন্ন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তারা প্রত্যেকেই নিজের অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে, যাতে পরীক্ষার ন্যায্যতা নিশ্চিত করা যায়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্রের অপ্রকাশ্য লিকেজের ফলে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা অন্যায়ের শিকার হচ্ছে। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
প্রতিবাদের সময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণও সমর্থন জানিয়ে, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য একসাথে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তারা দাবি করেন, পরীক্ষার সঠিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মানই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্থানীয় প্রশাসনকে এই অভিযোগের দ্রুত তদন্তের জন্য অনুরোধ করা হয়। মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা জানান, যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে আরও বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নিতে পারে।
এই প্রতিবাদে ব্যবহৃত মানববন্ধন চিহ্নটি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা হাত ধরিয়ে একত্রে দাঁড়িয়ে তাদের ঐক্য ও দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে। এটি শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি দৃশ্যমান প্রকাশ।
প্রতিবাদের সময়ে কোনো ধ্বংসাত্মক কাজের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি; সব অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় পুলিশ উপস্থিত ছিল, তবে কোনো হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।
এই ঘটনার পর, শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার আয়োজক সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধ করা জরুরি।
শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য, শিক্ষার্থীদের উচিত নিয়মিতভাবে পরীক্ষার নীতিমালা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত থাকা। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে আপনার প্রস্তুতি পরিকল্পনা ও নথিপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং পরীক্ষার সময় কোনো অনিয়মের শঙ্কা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করুন। আপনার অধিকার রক্ষার জন্য সচেতন থাকা সর্বোচ্চ সুরক্ষা।



