অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আইরিন ট্রেসি শনি দিন চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বারোতম সমাবর্তনে উপস্থিত হন। সমাবর্তনের প্রধান অনুষ্ঠান হিসেবে তিনি শিক্ষিত নারীর সমাজে অপরিহার্য ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন এবং ২৫৩ শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করেন।
ট্রেসি উপাচার্য উল্লেখ করেন, শিক্ষিত নারী ছাড়া অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা কঠিন। তিনি বলেন, নারীর শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে দেশের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নারীশিক্ষার বিস্তারের জন্য নীতি নির্ধারকদের আহ্বান জানান।
সমাবর্তনে ট্রেসি নারী অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগ, বৈষম্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অপতথ্য এবং মিথ্যা তথ্যসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি জোর দেন, এই সব ক্ষেত্রেই সত্যের অনুসন্ধান ও প্রশ্ন করার স্বাধীনতা মূল চাবিকাঠি।
স্বাধীন ও স্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়, এ কথায় তিনি সমাবর্তনের মূল থিমকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। শিক্ষার গুণগত মান ও গবেষণার স্বায়ত্তশাসনকে তিনি দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবর্তনের বিশেষ অংশ হিসেবে সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত হলেন আইরিন ট্রেসি নিজে, যাকে ডক্টর অব সায়েন্স অ্যান্ড দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব হিউম্যানকাইন্ড ডিগ্রি প্রদান করা হয়; টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট তেরু ফুজি ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি পান; জাপানের সাবেক ফার্স্ট লেডি আকিয়ে আবেক ডক্টর অব হিউম্যান লেটারস ডিগ্রি পান; যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য জ্যানেট অ্যানি রয়্যালকে ডক্টর অব আর্টস ফর লিডারশিপ অ্যান্ড এডুকেশনাল ইকুইটি প্রদান করা হয়; বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এম ওসমান ফারুককে ডক্টর অব সায়েন্স ইন এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট ডিগ্রি দেওয়া হয়; জাপানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকিকে ডক্টর অব আর্টস ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব পিস প্রদান করা হয়; এবং প্রথম আলোয়ের সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমানকে ডক্টর অব ক্রিয়েটিভ, রেসপনসিবল অ্যান্ড কারেজিয়াস জার্নালিজম ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
এই সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদানীর পাশাপাশি ২৫৩ শিক্ষার্থীকে সমাবর্তনের অংশ হিসেবে সনদ প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অর্জন ও সামাজিক দায়িত্বের স্বীকৃতি পেয়ে গর্বিত হন। সমাবর্তনের সমাপ্তিতে ট্রেসি উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে এই ডিগ্রিগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ট্রেসি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এই ডিগ্রি তোমাদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ছাড়াও কীভাবে শিখতে হবে তা শেখা তোমাদের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যে দেশে নারীর শিক্ষা ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়েছে, সেখানে নারী উদ্যোক্তা ও গবেষকরা নতুন প্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই ধরনের পরিবর্তন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক সমতা উভয়ই বাড়িয়ে তুলছে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: আপনার আশেপাশে যদি কোনো তরুণী শিক্ষার্থী থাকে, তবে তার শিক্ষার পথে সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করুন। নারীর শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নতি নয়, পুরো সমাজের সমৃদ্ধির ভিত্তি।



