১০ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার, নির্বাচন কমিশনের আগারগাঁও অফিসের অডিটরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীর মনোনয়ন সংক্রান্ত আপিল শোনার প্রথম সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই সেশনে ৫১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পুনরায় স্বীকৃত হয়, আর এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুনানি সকাল দশটায় শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রার্থীরা এবং তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আপিল দায়ের করেছিল।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, প্রথম দিনে মোট ৭০টি আপিলের বিষয় শোনা হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে, ১৫টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং ৩টি আপিল এখনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
মঞ্জুরকৃত আপিলের মধ্যে ৫১টি প্রার্থীর মনোনয়ন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অন্য একটি মঞ্জুরকৃত আপিলের ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑১) মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী একরামুজ্জামান তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন দায়ের করেছিলেন, যা শোনার পর নির্বাচন কমিশন আবেদনটি মঞ্জুর করে তার প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তিনি আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
জাতীয় পর্যায়ে মোট ৬৪৫টি আপিল দায়ের করা হয়েছে। আপিল গ্রহণের সময়সীমা ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল, যার শেষ দিনে একাই ১৭৬টি আপিল জমা হয়। এই বিশাল সংখ্যক আপিলের মধ্যে আজকের শোনার সেশন প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করেছে।
শুনানি শিডিউল অনুযায়ী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অতিরিক্ত ২৮০টি আপিল শোনা হবে। এই ধারাবাহিক শোনার মাধ্যমে সব আপিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রার্থীরা এবং তাদের আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন যে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা তাদের জন্য একমাত্র আইনি উপায়, যা নির্বাচন কমিশনের ন্যায়সঙ্গত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে।
এই আপিল শোনার ফলাফল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। মনোনয়ন পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে এমন প্রার্থীরা এখন আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন, আর বাতিল হওয়া প্রার্থীর জন্য তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থেমে যাবে।
নির্বাচন কমিশন উল্লেখ করেছে যে, সব আপিলের যথাযথ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা ভোটারদের জন্য স্পষ্ট ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করবে।
শুনানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে অতিরিক্ত শোনার ব্যবস্থা চালিয়ে যাবে, যাতে সকল আপিলের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা যায়।



