শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতের পরেই সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দিগুরিয়া গ্রাম থেকে পালিয়ে থাকা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার শিকারপুর এলাকায় গৃহে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত কিশোরটি শহিদুল ইসলামের পুত্র, যিনি সিরাজগঞ্জ শহরের ধানবান্দি মহল্লায় পানির ট্যাঙ্কের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং শোবুজ কানন স্কুল এন্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়ছিলেন। তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার কারণ ও সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ডের সন্দেহে তদন্তাধীন মামলায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে, এবং তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজনই আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ধারা ১৬৪ অনুযায়ী জবানবন্দি দিয়েছেন।
মৃতদেহটি ১৮ বছর বয়সী আব্দুর রহমান রিয়াদ, যিনি সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া খানপাড়া মহল্লার রেজাউল করিমের পুত্র। রিয়াদ সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
রিয়াদ ২৮ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত পড়াশোনার জন্য বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিকেল প্রায় চারটায় শহরের চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে সিএনজি গাড়ির ভিতরে বসে থাকাকালীন ১০ থেকে ১২ জন অপরাধী তাকে আক্রমণ করে। আক্রমণকারীরা বারমিচ চাইনিজ টিপ চাকি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা, চাপাতি এবং অন্যান্য ছুরি ব্যবহার করে রিয়াদকে গুরুতরভাবে আঘাত করে।
আহত অবস্থায় রিয়াদকে স্থানীয় লোকজন দ্রুত শিহর মুনসুর আলী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও রিয়াদ রাতের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর রেজাউল করিম, রিয়াদের পিতা, সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ জন অপরিচিত ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ১ নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃত ছয়জনকে শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ছোটবেলায় দোষ স্বীকারকারী কিশোরটি ধারা ১৬৪ অনুযায়ী জবানবন্দি দিয়ে আদালতে উপস্থিত হয়েছে। বাকি দুইজনের গ্রেফতার এখনও চলমান।
অধিকাংশ গ্রেফতারকৃত নাবালক বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের শর্তসাপেক্ষে রিলিজের প্রক্রিয়া চলছে। আদালত তাদের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে জবানবন্দি অনুমোদন করেছে, তবে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া অবশিষ্ট রয়েছে।
পুলিশের মতে, রিয়াদের আক্রমণকারী দলটি পূর্বশক্রতার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে এবং বিভিন্ন ধারাবাহিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে। আক্রমণের সময় রিয়াদ একা বসে ছিলেন, ফলে তার রক্ষা করার কোনো সহায়তা ছিল না।
মামলাটি সিরাজগঞ্জের শিক্ষার্থী ও ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সমস্যার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মন্তব্যে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।
বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্তকারী দল অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য স্থানীয় সূত্র ও নজরদারি রেকর্ড বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে। মামলার চূড়ান্ত রায় ও শাস্তি নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



