কক্সবাজারের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সময় প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত দুইজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা রুজু করে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে আদালতে প্রেরণ করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের রুপালি বাজারপাড়া এলাকার আক্তার আহমেদের ছেলে ফজলুল হক, বয়স ৩১, এবং কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশিখালী ইউনিয়নের লুৎফার বাপের পাড়া এলাকার হাবিনুল মান্নানের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, বয়স ২৮।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা ওসির মতে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শহরের দুইটি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নফাঁস চক্রের সহায়তায় অংশ নেওয়া এই দুইজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার প্রমাণিত হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, দক্ষিণ খুরুশকুল ও সিটি কলেজ কেন্দ্র থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গৃহীত অপারেশনে দুজনকে আটক করা হয়। এই অপারেশনটি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ককে ভেঙে ফেলতে লক্ষ্য রাখে।
অধিক তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতারকৃতদের বাসা থেকে দুটি মোবাইল ফোন, একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং একটি পুলিশের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এই সামগ্রীগুলো প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ হিসেবে তদন্তে ব্যবহার করা হবে।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে; পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত নির্ধারণ করবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আদালতের আদেশ মেনে চলতে হবে এবং অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশে সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
প্রশ্নফাঁস চক্রের কার্যক্রম পূর্বে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে অনিরাপত্তা সৃষ্টি করেছিল, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ধরণের জালিয়াতি রোধে শিক্ষা বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। তদুপরি, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক শনাক্ত হলে তা দ্রুত আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
এই ঘটনা সংবেদনশীল প্রকৃতির হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং মামলার ফলাফল প্রকাশের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে এমন ধরনের জালিয়াতি রোধে নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি বাড়ানো এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।



