বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস শনি বিকেলে ঢাকা কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত দোয়া-নামাজে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা সংক্রান্ত সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো দল বা গোষ্ঠী যদি ভোটের ফলাফল পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে তা কোনোভাবে স্বীকৃত হবে না।
অনুষ্ঠানটি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য মাগফিরাতের প্রার্থনা ও নামাজের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা তার স্বাস্থ্যের জন্য দোয়া করেন। মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের সময় উপস্থিত শ্রোতারা মনোযোগ সহকারে শোনেন।
মির্জা আব্বাস উল্লেখ করেন, একটি গোপন চক্র বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এমন কোনো ষড়যন্ত্রকে সহ্য করা হবে না এবং যেখানে-যেখানে এই ধরনের পরিকল্পনা করা হবে, সেখানেই কঠোর প্রতিরোধ গৃহীত হবে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন, কোনো উসকানিতে পা না দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলীয় সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মির্জা আব্বাস বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য লড়াইকে প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি দেশের স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য অবিচলভাবে সংগ্রাম করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জিয়ার জেলখানায়ও অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে, তবু তিনি তার আদর্শ ত্যাগ করেননি। এই বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে জিয়ার দৃঢ়তা ও সাহসিকতাকে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মির্জা আব্বাসের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সম্পদ ও ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে চেয়েছেন, তবে তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়ার শেষ দাফন অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমই তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের মানুষ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক। তিনি বলেন, জনগণের মনোভাবের ভিত্তিতে বিএনপি সর্বোচ্চ সমর্থন পাবে।
মির্জা আব্বাস ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি নিশ্চিত করেন, বর্তমান জোয়ারে বিএনপি জয়লাভের সম্ভাবনা সর্বোচ্চ এবং দলটি এই প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অগ্রসর হবে।
শেষে তিনি সকল দলীয় কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে শীঘ্রই আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।



