শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়ি রেস্টুরেন্টে বেগমগঞ্জ বাসীর উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তরিক রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
বুলু উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বনির্ভর অর্থনৈতিক বাংলাদেশ এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচারকে ভিত্তি হিসেবে চেয়েছিলেন, যা শিহরণময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বুলু বলেন, আজকের বাংলাদেশে যে সব উন্নয়ন কাজ চলছে, তা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের ধারাবাহিকতা। তরিক রহমানের হাতে অবশিষ্ট কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য তার হাতকে শক্তিশালী করা প্রত্যেকের দায়িত্ব, এ কথায় তিনি উপস্থিত সবাইকে একত্রিত করার আহ্বান জানান।
বুলু তরিক রহমানের ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত জীবনের কথা তুলে ধরে বলেন, দেশে ফিরে তিনি যে রাজকীয় স্বাগত ও সংবর্ধনা পেয়েছেন, তা দেশের মানুষের আন্তরিকতা প্রকাশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, তরিক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি একবারের জন্যই হাশিনার বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেননি এবং তিনি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি ও রাসুল সা. এর ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তরিকের এই আহ্বানকে তিনি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাস্তবায়নের গুরুত্ব জোর দেন।
অনুষ্ঠানে বাগমনিরাম ওয়ার্ডের বিএনপি আহ্বায়ক রাশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে নোয়াখালী জেলা বিএনপি সদস্য শামীমা বরকত লাকি, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটি সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সাবেক সদস্য প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন রাজু, দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের আহ্বায়ক খন্দকার নুরুল ইসলাম, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন (চেয়ারম্যান), জিয়া সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন এবং চট্টগ্রামস্থ নোয়াখালী সমিতির আহ্বায়ক শাহজালাল লিটন সহ বহু স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।
বুলুর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, তরিক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা হলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ গঠন ও আসন্ন নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে। তরিকের নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সমন্বয় ঘটলে পার্টির সংগঠনের পুনর্গঠন ও ভোটার বেসের সম্প্রসারণে সহায়তা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুলু শেষ করে বলেন, তরিক রহমানের কাজকে সমর্থন করা এবং তার হাতকে শক্তিশালী করা শুধুমাত্র এক নেতা নয়, পুরো দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল সমর্থককে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।



