বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং নাটোর‑২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু শনিবার নাটোরের নবাব সিরাজ‑উদ‑দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি টি‑২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকার গঠিত হলে দেশের খেলোয়াড়দের জন্য সরকারি ভাতা প্রদান করা হবে।
দুলু বলেন, প্রায় সতেরো‑আট বছর আগে দেশের খেলাধুলা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবহার করা শুরু হয়। সেই সময়ে যদি কোনো ক্রীড়াবিদ আওয়ামী লীগ‑সমর্থক না হতেন, তবে তিনি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দলে অংশ নিতে পারতেন না।
তিনি এ কথা উল্লেখের মাধ্যমে বর্তমান ক্রীড়াবিদদের সম্মুখীন আর্থিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেন। দুলু বলেন, খেলোয়াড়রা যখন তাদের ক্রীড়ি জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে অবসরে যান, তখন অনেকেই আর্থিক দিক থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে।
বিএনপির নেতা তারেক রহমানের ক্রীড়া নীতি সম্পর্কে দুলু ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমান স্কুল পর্যায়ে আন্তঃস্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা করেছেন, যা পূর্বে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
দুলু আরও জানান, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে খেলা শেষ করা খেলোয়াড়দের অবসর গ্রহণের পর সরকারী ভাতা প্রদান করা হবে। এই ব্যবস্থা তারেক রহমানের নেতৃত্বে, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে বাস্তবায়িত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিত্বদের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন, সাইফুল ইসলাম আফতাব, সদস্য নাসিম উদ্দিন নাসিম, কাজী শাহ আলম, প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন, টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক মো. বাদশা আলম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব রাকিবুল হাসান এবং টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সদস্য ফয়জুল হক শামিম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
দুলু উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়দের জন্য এই ধরনের আর্থিক সহায়তা কেবল তাদের জীবনের গুণগত মান উন্নত করবে না, বরং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে আগ্রহী করবে। তিনি বলেন, সরকারী ভাতা ব্যবস্থা ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত করা উচিত।
বিএনপির এই প্রতিশ্রুতি পূর্বে প্রকাশিত ক্রীড়া নীতি সংক্রান্ত ঘোষণার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। দুলু উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্রীড়া সংস্থার কাঠামো পুনর্গঠন এবং খেলোয়াড়দের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অবশ্যই, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিকল্পনা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে তা স্পষ্ট নয়। তবে দুলু আশাবাদ প্রকাশ করেন, যদি বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে ক্রীড়া খাতের উন্নয়নে এই ধরনের পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রীড়া নীতি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
দুলুর বক্তব্যের ভিত্তিতে, ভবিষ্যতে ক্রীড়া সংক্রান্ত বাজেটের অংশ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অবসরপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ভাতা স্কিম চালু হতে পারে। এই ধরনের নীতি বাস্তবায়ন হলে দেশের ক্রীড়া পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যায়।



