কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্ট গার্ড ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এক বিশাল মাদক ধ্বংস অভিযান সম্পন্ন করেছে। মাদকদ্রব্যের মোট মূল্য প্রায় ১৮ কোটি ৮ লাখ টাকা বলে অনুমান করা হয়েছে। এই কাজটি কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হক কর্তৃক জানানো হয়।
কোস্ট গার্ডের ১৭ মে ২০২৫ থেকে ১২ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত চলা চারটি মাদকবিরোধী অভিযানের ফলস্বরূপ, মোট ১,৬১,০০০ পিস ইয়াবা, ৯৯০ গ্রাম ইয়াবা তৈরির পাউডার, ২ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং ১০ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সামগ্রী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কক্সবাজারের স্মারক নম্বর ৭২(২)১, ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে টেকনাফে সংরক্ষিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুসারে, ১০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় কক্সবাজার‑১ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সচিব বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইনচার্জ মালখানা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেকনাফ বিশেষ জোনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে কোস্ট গার্ডের র্যাব এবং স্থানীয় পুলিশের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মী একত্রে জব্দকৃত ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ এবং গাঁজা ধ্বংসের কাজ সম্পন্ন করেন। ধ্বংসের পদ্ধতি ও সময়সূচি আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হক উল্লেখ করেন, দেশের আইন‑শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল চালু রেখেছে। উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলে এই টহল কার্যক্রমের ফলে অপরাধের হার হ্রাস পেয়েছে এবং মাদকের বিস্তার রোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। তিনি আরও জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে।
কোস্ট গার্ডের এই ধ্বংস অভিযান দেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদকদ্রব্যের জব্দ ও ধ্বংসের মাধ্যমে সরকার মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অভিযানের পরবর্তী পর্যায়ে, জব্দকৃত সামগ্রীর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ধ্বংসের রেকর্ড সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
কক্সবাজারে মাদকবিরোধী এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে। একই সঙ্গে, মাদকদ্রব্যের সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙতে এবং অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম সীমিত করতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের টেকনাফে পরিচালিত এই ধ্বংস কার্যক্রম মাদকদ্রব্যের অবৈধ প্রবাহকে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান চালিয়ে দেশের মাদক সমস্যার মূল শিকড় কাটার দিকে অগ্রসর হওয়া হবে।



