মাগুরা সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নের আমুড়িয়া মাঝিপাড়া গ্রামে শুক্রবার রাত ৩ টার কাছাকাছি একদল অপরাধী গৃহে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে। ভুক্তভোগী হলেন মৃত হাজী আব্দুর বারী মোল্লার ছেলে মো. মুস্তাফিজুর রহমান, বয়স ২৮ বছর।
সন্দেহভাজনরা বাড়ির সিঁড়ি ঘরের টিন কেটে ও গ্রিল ভেঙে প্রবেশের পথ তৈরি করে। বাড়ির দরজা ও জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা মুখ বেঁধে গৃহস্থদের জিম্মি করে। গৃহস্থদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান এবং তার স্ত্রী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ডাকাতরা মুস্তাফিজুর রহমানকে চড়-থাপ্পর মারেন, তাকে বিছানার ওপর ফেলে লেপ দিয়ে চেপে ধরেন এবং তার স্ত্রীর পিঠে আঘাত হানেন। এরপর ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করার হুমকি দিয়ে পুরো পরিবারকে ভয় দেখিয়ে নেয়।
হুমকি সত্ত্বেও গৃহস্থদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার জোরপূর্বক নেওয়া হয়। লুটের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন এবং এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, মোট ওজন প্রায় তিন ভরি। নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল সাড়ে তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা।
মুস্তাফিজুর রহমান গরু ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন এবং ওই রাতে গরু বিক্রির নগদ অর্থ বাড়িতে সঞ্চয় করা ছিল। অপরাধীরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে ঢুকে, ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বিছানায় ফেলে লেপ দিয়ে চেপে ধরে লুট সম্পন্ন করে।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আশিকুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই দলটি ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে।
থানার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অপরাধীদের সনাক্তকরণের জন্য স্থানীয় সূত্র ও ফোরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। লুটের সামগ্রী ও নগদ অর্থের পুনরুদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করা তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ পেট্রোল বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। গৃহস্থদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে। ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



