20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের পুতিনকে ধরার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে হতাশা প্রকাশ

ট্রাম্পের পুতিনকে ধরার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে হতাশা প্রকাশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের পর, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একইভাবে ধরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, পুতিনের বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযান চালানোর প্রয়োজন নেই, যদিও তিনি রাশিয়ার নেতৃত্বে চলমান সংঘাতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি পূর্বে স্বৈরশাসকদের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা উল্লেখ করে ইঙ্গিত দেন যে, পুতিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। তবে ট্রাম্পের মন্তব্য দেখায় যে, তিনি এমন কোনো পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন না। তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে পুতিনের সম্পর্ক ভাল থাকবে।” পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তা কৌশল সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

ট্রাম্পের মতে, তিনি ইতিমধ্যে আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে তুলনামূলকভাবে সহজে থামানো সম্ভব বলে ভেবেছিলেন। তবে বাস্তবে, গত মাসে উভয় পক্ষের সামরিক কর্মী প্রায় ৩১,০০০ প্রাণ হারিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাশিয়ান সৈন্য অন্তর্ভুক্ত। এই মানবিক ক্ষতি ট্রাম্পকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তিনি যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি কামনা করেছেন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি), যা হেগে অবস্থিত, ইতিমধ্যে পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই আইনি পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, জেলেনস্কি স্বৈরশাসকদের শাস্তি সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “এরপর কী করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র সেটি ভালই জানে।” যদিও তিনি সরাসরি মাদুরোর অপারেশন উল্লেখ করেননি, তবু তার ইঙ্গিত স্পষ্ট যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত অপারেশনটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যেখানে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের সাপোর্টে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে, এবং রাশিয়ার নেতৃত্বের ওপর একই ধরনের পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে দেয়। তবে ট্রাম্পের স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান এই আলোচনাকে থামিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের মন্তব্যে রাশিয়ার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, “রাশিয়ার অর্থনীতি খুব খারাপ অবস্থায় আছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই আর্থিক সংকটের ফলে সংঘাতের সমাধান সহজতর হবে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, যুদ্ধের অব্যাহত চলমানতা বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে, বিশেষত সৈন্যদের মধ্যে।

এই বিবৃতি থেকে স্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পুতিনকে গ্রেপ্তার করার কোনো সরাসরি নির্দেশনা দেবেন না, তবে তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি এবং মানবিক ক্ষতির হ্রাসের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবেন। ভবিষ্যতে, আইসিসি-র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের ফলে পুতিনের ওপর আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তবে তা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

এই ঘটনাগুলি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষমতা ও আইনি পদক্ষেপের সমন্বয় রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশের নেতৃত্বকে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের মন্তব্য এবং জেলেনস্কির ইঙ্গিতের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধের ফলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে, এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে নতুন কৌশল গড়ে উঠতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্প পুতিনকে ধরা বা তার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ইচ্ছা না প্রকাশ করে, তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মানবিক দিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রতি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি রাশিয়ার নেতৃত্বের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments