দেবীদ্বার, কুমিল্লা – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ, শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর ইউনিয়নের একটি উঠান বৈঠকে ভোট চুরির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মিটার, ট্রান্সমিটার এবং ব্যাংকের টাকা চুরি করা ব্যক্তিরা এখন ভোট চুরির পরিকল্পনা করছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাধা দেওয়ার জন্য তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ এনসিপি দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক এবং নির্বাচনে কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনের জন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার বক্তব্যটি ‘ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে শেয়ার করা হয়।
বক্তা বলেন, মিটার, ট্রান্সমিটার এবং ব্যাংকের তহবিল চুরি করা লোকজন এখন ভোট চুরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট চুরি হতে না দেওয়া এবং ভোটারদের স্বচ্ছভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।
হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ অবৈধভাবে ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসে, তবে তার কোনো লাভ হবে না। তিনি ভোটের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান, যাতে কোনো অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
তিনি ধর্মীয় নীতি উল্লেখ করে বলেন, হারাম দিয়ে শুরু করে হালাল কাজ করা যায় না এবং অতীতে দুর্নীতি, মিটার ও অন্যান্য মামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে আহ্বান জানান। তিনি এই বিষয়গুলো জনগণের হাতে ছেড়ে দিয়ে তাদের বিচারবোধের ওপর নির্ভর করার ইঙ্গিত দেন।
হাসনাতের মতে, যারা কেন্দ্র দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তারা তা কখনোই সফল হতে পারবে না; একইভাবে ভোট চুরির পরিকল্পনা করা দলও তা বাস্তবায়ন করতে পারবে না। তিনি জনসাধারণের সমর্থন নিয়ে এসব পরিকল্পনা বিরোধী হতে প্রস্তুত আছেন বলে জানান।
সেই দিন সকাল থেকে ইউসুফপুর ইউনিয়নের মুকসাইর গ্রাম, নবীপুর বাজার, পৈরাংকুল গ্রাম, এগারোগ্রাম এবং যুক্তগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী পদযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। এই পদযাত্রায় হাসনাত আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পদযাত্রায় স্থানীয় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে একতাবদ্ধতা ও সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের প্রকাশনা নির্বাচনী সময়ে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণাত্মক রেটোরিক্স বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।



