ইন্ডিয়ার শীর্ষ ব্যাটসম্যান শুবমান গিল টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নির্বাচিত না হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বীকার করে শান্ত মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এই বাদ পড়া তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি২০ বিশ্বকাপের বাদ, তবে তিনি এখন টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে মনোনিবেশ করবেন।
গিলের মতে, টেস্ট ফরম্যাটে ধারাবাহিকতা ও মানসিক দৃঢ়তা তৈরি করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জরুরি কাজ। তিনি উল্লেখ করেন, টেস্টের দীর্ঘ সময়কাল ও শারীরিক চাহিদা মোকাবিলায় আরও কাঠামোগত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি গিলের কোনো আপত্তি নেই; তিনি বলেন, নির্বাচনের পেছনে থাকা মানদণ্ডকে সম্মান করা উচিত। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
গিলের টেস্ট প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া সময়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে, ভারতীয় দল আগামী মাসে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজের সূচি পেয়েছে। এই সিরিজটি গিলের জন্য টেস্টে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
টেস্ট সিরিজের আগে গিলের ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনায় টেকনিক্যাল কাজ, শারীরিক ফিটনেস এবং মানসিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলছেন, এই উপাদানগুলো একত্রে টেস্টের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
গিলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি টি২০ ফরম্যাটে ফিরে আসার চেয়ে টেস্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের দিকে বেশি মনোযোগ দেবেন। তার মতে, টেস্টে ধারাবাহিকতা অর্জন করলে টি২০ ও ওডিআই উভয় ফরম্যাটে স্বাভাবিকভাবে উন্নতি হবে।
বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের পর গিলের মনোভাবকে প্রশংসা করা হয়েছে, কারণ তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ না দেখিয়ে দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই ধরণের পেশাদারিত্ব ক্রিকেটের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
গিলের টেস্ট প্রস্তুতির পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিশদ জানানো হয়নি, তবে তিনি ইতিমধ্যে শারীরিক ট্রেনার ও মানসিক কোচের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন। এই সহযোগিতা তার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।
ইন্ডিয়ার টেস্ট ক্যাপ্টেনের সঙ্গে গিলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাপ্টেনের নির্দেশনা ও গিলের প্রস্তুতি একসাথে টেস্ট সিরিজে দলের সামগ্রিক শক্তি বাড়াবে।
গিলের টেস্টে ফিরে আসার ইচ্ছা ও প্রস্তুতি দলকে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে, বিশেষ করে যখন দলটি বিদেশি শর্তে খেলার পরিকল্পনা করছে। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা টেস্টের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, শুবমান গিল টি২০ বিশ্বকাপের বাদ পড়া নিয়ে শান্ত মনোভাব বজায় রেখে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে মনোনিবেশ করেছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গিলের টেস্টে ফোকাস এবং আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে।



