28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) সাপ্তাহিক দাখিল বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) সাপ্তাহিক দাখিল বাধ্যতামূলক

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) ১০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক পত্রের মাধ্যমে নগদ লেনদেন রিপোর্ট (CTR) দাখিলের নতুন নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে। নির্দেশনাটি বিএফআইইউ পরিচালক এ কে এম গোলাম মাহমুদের স্বাক্ষরিত এবং পূর্বের ১৬ জুন ২০২০ তারিখের সার্কুলার নং‑২৬‑এর ছয় নম্বর অনুচ্ছেদে নির্ধারিত সীমা বজায় রেখে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

সার্কুলার নং‑২৬‑এর মূল বিধান অনুসারে, কোনো ব্যক্তি একক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে দশ লাখ টাকা বা সমমানের বিদেশি মুদ্রা জমা বা উত্তোলন করলে (অনলাইন, এটিএম অথবা যেকোনো নগদ লেনদেন) বিএফআইইউ‑তে CTR দাখিলের দায়িত্ব থাকে। নতুন নির্দেশনা এই দায়িত্বকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে রূপান্তরিত করে, যেখানে প্রতিটি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে।

নতুন নিয়মের কার্যকরী তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে। তদুপরি, ১ থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের CTR ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ের মধ্যে দাখিল করতে হবে, যাতে পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত হয়। এই সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে পূর্বের সার্কুলার নং‑২৬‑এর অন্যান্য নির্দেশনা অব্যাহত থাকবে।

নিয়মের আইনি ভিত্তি হিসেবে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ধারা ২৩(১) (ঘ) এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৫(১) (ঘ) উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাগুলি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উপর নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করে।

বিএফআইইউ‑এর নতুন নির্দেশনা ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থাগুলোর জন্য রিপোর্টিং সিস্টেমে অতিরিক্ত পরিবর্তন আনার প্রয়োজন তৈরি করবে। সাপ্তাহিক রিপোর্টিং মানে ডেটা সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রেরণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে হবে, যা আইটি অবকাঠামো ও কর্মী প্রশিক্ষণে অতিরিক্ত ব্যয় বাড়াতে পারে।

অতিরিক্তভাবে, ব্যাংকগুলোকে লেনদেন পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যারের আপডেট, স্বয়ংক্রিয় সতর্কতা ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের শক্তিশালীকরণে মনোযোগ দিতে হবে। এই ধাপগুলো না নেওয়া হলে রিপোর্টের দেরি বা ত্রুটি ঘটতে পারে, যা নিয়ন্ত্রক শাস্তির কারণ হতে পারে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, সাপ্তাহিক CTR দাখিলের ফলে নগদ লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। তবে, ছোট ব্যবসা ও ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য দ্রুত রিপোর্টিং প্রক্রিয়া অতিরিক্ত প্রশাসনিক বোঝা সৃষ্টি করতে পারে, যা নগদ ব্যবহারের প্রবণতায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে পারে।

নিয়মের লঙ্ঘন করলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে জরিমানা, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো কঠোর শাস্তি আরোপিত হতে পারে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভ্যন্তরীণ অডিট ও সম্মতি বিভাগকে শক্তিশালী করে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, নতুন নির্দেশনা আর্থিক সেক্টরের স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে, বাস্তবায়নের সময় ব্যাংকগুলোকে প্রযুক্তিগত ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যাতে রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন হয়।

ভবিষ্যতে, সাপ্তাহিক CTR দাখিলের অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত হলে নগদ লেনদেনের উপর নিয়ন্ত্রক নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে এবং আর্থিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন। এই পরিবর্তনটি আর্থিক অপরাধের প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ করে তুলবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments