টেলিগু চলচ্চিত্র শিল্পের আর্থিক সংকটের নতুন উদাহরণ সামনে এসেছে। চিরঞ্জীবি প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করা, ববি পরিচালিত অজানা শিরোনামের ছবিতে প্রখ্যাত মালয়ালম অভিনেতা মোহনলালকে ক্যামিও হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। তবে অভিনেতা ৩০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক চাওয়ার ফলে প্রকল্পটি বড় ধাক্কা পেয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিগু সিনেমা বাজারে উৎপাদন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে, আর বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অনেক প্রযোজনা সংস্থা বাজেট সংকটে আটকে আছে। এই পরিস্থিতি ছোট বাজেটের চলচ্চিত্রকে ছাড়িয়ে বড় প্রকল্পের সাফল্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
ববি পরিচালিত, চিরঞ্জীবি মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা এই অজানা শিরোনামের ছবি বর্তমানে প্রি-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে। চলচ্চিত্রের গল্পের কেন্দ্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় তারকার ক্যামিও উপস্থিতি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা দর্শকদের আকর্ষণ বাড়াবে বলে ধারণা করা হয়।
প্রযোজকরা মোহনলালের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে, কোনো পারিশ্রমিক না নিয়ে ক্যামিও করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দু’জনের পূর্বে কোনো যৌথ কাজ না থাকলেও, পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবটি স্বাভাবিকভাবে গৃহীত হওয়ার আশা করা হয়েছিল।
অপ্রত্যাশিতভাবে, মোহনলাল ৩০ কোটি টাকা পারিশ্রমিকের দাবি জানিয়ে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। এই চাহিদা প্রযোজকদের জন্য অপ্রত্যাশিত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করে, কারণ ছবির মোট বাজেট ইতিমধ্যেই সীমিত।
প্রযোজক দল দ্রুত বিকল্প খোঁজার জন্য পদক্ষেপ নেয়, এবং ক্যামিও ভূমিকা অন্য কোনো তেলিগু তারকার কাছে বিনা পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে প্রদান করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করে। তবে সময়ের সংকট এবং বাজেটের সীমাবদ্ধতা তাদের জন্য সহজ কাজ নয়।
একজন সূত্রের মতে, বর্তমান টেলিগু প্রযোজকরা ৩০ কোটি টাকা এমনকি পূর্ণকালীন প্রধান চরিত্রের জন্যও প্রদান করতে সক্ষম নয়। এই বাস্তবতা ক্যামিও প্রকল্পকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
টেলিগু চলচ্চিত্র শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ভাড়া বাড়া, এবং ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন একসঙ্গে কাজ করে বাজেটের ওপর চাপ বাড়িয়ে তুলেছে। বড় তারকার উপস্থিতি এখন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না।
এই ঘটনা বড় তারকার সঙ্গে যৌথ কাজের মূল্যায়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনছে। প্রযোজকরা এখন আর্থিক দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে, পারিশ্রমিকের পরিমাণ ও শর্তাবলীকে কঠোরভাবে নির্ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভবিষ্যতে টেলিগু শিল্পে একই রকম সহযোগিতা পুনরায় দেখা দিতে পারে, তবে তা হবে আরও বাস্তববাদী শর্তে। বাজেটের সীমা অতিক্রম না করে সৃজনশীল সমাধান খুঁজে বের করা শিল্পের টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠবে।
এই পরিস্থিতি শিল্পের অন্যান্য বিভাগেও প্রভাব ফেলতে পারে, যেমন সঙ্গীত, বিজ্ঞাপন এবং বিতরণ চ্যানেল। আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রযোজকরা নতুন তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি এবং খরচ কমানোর কৌশল অনুসন্ধান করতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, মোহনলালের পারিশ্রমিক চাহিদা টেলিগু চলচ্চিত্রের আর্থিক বাস্তবতা উন্মোচন করেছে এবং শিল্পকে বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সৃজনশীল পরিকল্পনা করতে উৎসাহিত করেছে।



