শহীদ লুৎফুর রহমান বিজিবি হাসপাতাল থাকুরগাঁয়ে শীতের তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে ১৫০টি দরিদ্র পরিবারকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। এই বিতরণ শনিবার দুপুরে বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্যোগটি হাসপাতালের সদর দপ্তরের নির্দেশনা ও থাকুরগাঁ সেক্টরের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।
বিতরণকৃত সামগ্রীতে উল, স্যুট, টুপি, মোজা এবং গরম কোট অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা শীতের তীব্রতা থেকে শারীরিক ক্ষতি রোধে সহায়ক। মোট ১৫০টি পরিবারকে সমানভাবে বণ্টন করা হয়, যাতে প্রত্যেক গৃহস্থালীকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে গরম পোশাক পাওয়া যায়।
বর্ডার গার্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা একত্রিত হয়ে কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। মাঠের চারপাশে স্বাস্থ্য সচেতনতা পোস্টার ও শীতকালীন সুরক্ষা নির্দেশিকা স্থাপন করা হয়, যা উপস্থিতদের জন্য অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ লুৎফুর রহমান বিজিবি হাসপাতালের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জামিল আক্তার চৌধুরী, যিনি ডিটিসিডি ও এএমসি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ, বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও অংশগ্রহণ করেন।
হাসপাতালের বিবৃতি অনুযায়ী, শীতবস্ত্র বিতরণের মূল লক্ষ্য হল শীতের তীব্রতা থেকে দুর্বল গোষ্ঠীর শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের জীবনে কিছুটা উষ্ণতা প্রদান করা। এই ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় স্বাস্থ্য অবস্থা উন্নত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।
বস্ত্র গ্রহণকারী পরিবারগুলো এই উদ্যোগকে প্রশংসা করে, তারা জানান যে গরম পোশাকের অভাবে শীতকালে শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও হাইপোথার্মিয়া ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। শীতবস্ত্র পাওয়ার পর তারা শীতের কষ্ট থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন সহায়তা অব্যাহত থাকলে স্বস্তি বোধ করেন।
শীতকালে শারীরিক তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, যা বিশেষ করে বয়স্ক, শিশুসহ দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য হাইপোথার্মিয়া ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে। গরম পোশাকের যথাযথ ব্যবহার রক্ত প্রবাহ বজায় রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। তাই শীতবস্ত্রের সময়মত বিতরণ স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজিবি হাসপাতাল ভবিষ্যতে একই ধরণের শীতকালীন সহায়তা কার্যক্রমকে নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে শীতের আগমনের আগে দরিদ্র গৃহস্থালীর চাহিদা নিরূপণ করে যথাযথ পরিমাণে বস্ত্র সরবরাহের জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।
শীতের কঠিন সময়ে গরম পোশাকের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্যের নয়, মানসিক স্বস্তিরও ভিত্তি। আপনি কি আপনার এলাকায় শীতবস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানেন? স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব।



