শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন পঞ্চগড়া জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় শনিবার শীতের আনন্দ উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে প্রান্তিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শীতের পোশাক ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এই উদ্যোগে তেঁতুলিয়া উপজেলায় মোট সাড়ে সাত হাজারের বেশি শিশুকে উপহার দেওয়া হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন বছরের পর বছর ধারাবাহিকভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতকালীন উপহার বিতরণ করে আসছে। তেঁতুলিয়া উপজেলায় এইবার ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধীনে এক হাজার ত্রিশ পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সরাসরি উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।
বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে শীতের হুডি, স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলম এবং অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী অন্তর্ভুক্ত ছিল। তেঁতুলিয়া সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা উষ্ণতা ও শিক্ষার সমন্বয় অনুভব করেছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সৈয়দ মো. নুরুল বাসি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম সেলিম। উভয় কর্মকর্তা শিশুদের হাতে শীতের হুডি ও শিক্ষাসামগ্রী তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের এফসিএ ডিরেক্টর অঞ্জন মল্লিক, তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল ইসলাম, সমাজসেবক শাহাদাত হোসেন রঞ্জু, প্রাক্তন উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শাহিন, জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত মাহমুদুল ইসলাম মামুন, স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের আহ্বায়ক আহসান হাবিব এবং শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা কবীর আহম্মেদ আকন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সহায়তা করেন। বিতরণকৃত সামগ্রীগুলো সরাসরি শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে, শীতের তাপমাত্রা থেকে রক্ষা পেতে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিশুস্বর্গ ফাউন্ডেশন উল্লেখ করেছে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা মেটানো এবং তাদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব। বিশেষ করে শীতের কঠিন সময়ে উষ্ণ কাপড়ের সরবরাহ তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিতরণকৃত হুডি ও ব্যাগগুলো শিক্ষার্থীদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। শিশুরা নতুন সামগ্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে গিয়ে, শিক্ষার প্রতি তাদের উদ্দীপনা বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। এই ধরনের সরাসরি উপহার বিতরণে সম্প্রদায়ের সংহতি ও সমবায়ের শক্তি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: শীতের মৌসুমে শিশুরা যথাযথভাবে গরম পোশাক পরা নিশ্চিত করুন এবং শিক্ষাসামগ্রী নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পরিবর্তন করুন। এভাবে শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে উভয়ই সুস্থ থাকবে।
শীতের এই উদ্যোগটি পঞ্চগড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি শিশুকে উপকৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। স্থানীয় সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তার সমন্বয়ে এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে প্রত্যেক শিশুর শিক্ষার অধিকার সুরক্ষিত থাকে।



