22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. সায়মা ফেরদৌসের ভাষণ: সচেতনতা ও ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার রোধের আহ্বান

ড. সায়মা ফেরদৌসের ভাষণ: সচেতনতা ও ভোটের মাধ্যমে স্বৈরাচার রোধের আহ্বান

শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সোনারময় ইউনিটের পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি উপস্থিত সকলকে জানিয়ে দেন যে, যদি প্রত্যেক নাগরিক তার নিজস্ব অবস্থান থেকে সচেতন থাকে এবং অধিকার রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কথা বলে, তবে স্বৈরাচারী কোনো শক্তি দেশের শীর্ষে উঠতে পারবে না।

ড. সায়মা, যিনি জুলাই ২০২৩-এ ঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন, তা উল্লেখ করে বলেন যে, সেই আন্দোলন বঞ্চনা ও নির্যাতনের ফলস্বরূপ উত্থাপিত হয়েছিল। তিনি অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরে বর্তমানের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তুলনা করেন।

বক্তৃতায় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগকে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আবু সাঈদের আত্মত্যাগ, মুগ্ধের তৃষ্ণার্ত মানুষকে পানি খাওয়াতে গিয়ে জীবন উৎসর্গ, এবং ওয়াসিমের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা জোর দেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের স্বপ্নকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না।

ভোটের অধিকার সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভোট দেওয়া মানে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রার্থীকে সমর্থন করা, যা দীর্ঘদিন ধরে কেড়ে নেওয়া একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি তরুণ প্রজন্মকে আহ্বান জানান যে, ভোটের গুরুত্ব বুঝে এমন প্রার্থীকে সমর্থন করবে, যারা স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পাহাড় ও সমতল এলাকার সমান সুযোগ, এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রাধিকার দেবে।

ড. সায়মা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশপ্রেম তখনই সত্যিকারের জাগ্রত হয়, যখন রাষ্ট্র তার নাগরিকের দেশপ্রেমকে সম্মান ও মূল্যায়ন করে। তিনি কুমিল্লার প্রতি তার গভীর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “আমি গর্ববোধ করি আমি কুমিল্লার মেয়ে; কুমিল্লায় যতবারই আসি, ততবারই নিজের ঘরে ফিরে এসেছি।”

অনুষ্ঠানটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মোহাম্মদ তাইয়্যেবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সোনারময় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মোস্তফা স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আর ডা. সাঈদ মো. সারোয়ার শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া এবং মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কুমেকের উপাধ্যক্ষ ডা. সজীবুর রশিদ এবং ড্যাব কুমেক শাখার সভাপতি ডা. মি. (নাম অসম্পূর্ণ) সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন। সকল উপস্থিতি একত্রে ড. সায়মার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই বক্তৃতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এটি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা যুক্ত করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশ্য আহ্বানগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করবে।

সারসংক্ষেপে, ড. সায়মা ফেরদৌসের বক্তব্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে জাতীয় স্বৈরাচার বিরোধী চেতনা জোরদার করেছে, ভোটের অধিকারকে পুনরুদ্ধার ও ব্যবহার করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে, এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments