বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কাছে এক স্পষ্ট অনুরোধ জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার নামের আগে ‘মাননীয়’ শব্দটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এই অনুরোধটি একটি সাংবাদিক নেতা ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করার পর প্রকাশ পায়।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিক নেতা তারেক রহমানকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে তিনি তৎক্ষণাৎ তার নামের আগে এই সম্বোধন না করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এই শব্দটি ব্যবহার করা তার পছন্দের নয় এবং ভবিষ্যতে এধরনের সম্বোধন এড়িয়ে চলা উচিত।
তারেক রহমান জানান, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও তার মন সর্বদা দেশের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের ঘটনা দেশের মানুষকে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিণতি স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে।
মতবিরোধের ক্ষেত্রে তিনি জোর দেন, পার্থক্যগুলোকে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা দরকার, যাতে তা বড় সংঘাতে রূপ না নেয়। তিনি বলেন, মতপার্থক্যকে মতবিরোধের স্তরে না নিয়ে গিয়ে সমন্বিত আলোচনায় রূপান্তর করা উচিত।
বিএনপি নেতা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করে নতুন প্রজন্মের চাহিদা পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্ম দিকনির্দেশনা ও আশার সন্ধান করছে, যদিও সব প্রজন্মই একই রকম গাইডেন্সের প্রত্যাশা রাখে।
রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা বহুমুখী। তিনি স্বীকার করেন, সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, যদি রাজনীতিবিদরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মনোযোগ দেন, তবে জাতি সঠিক পথে অগ্রসর হতে পারবে।
এই মতবিনিময় সভা সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, যারা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমত গঠন সম্পর্কে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে তারেক রহমান উপস্থিত সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি উপস্থিতদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তারেক রহমানের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত জনমতের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা এবং সমন্বিত নীতি গঠন করা।
এই সভা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে সংলাপের নতুন দিক উন্মোচনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সাংবাদিকরা ভবিষ্যতে এধরনের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও স্বচ্ছতা ও তথ্যের আদানপ্রদান আশা প্রকাশ করেন।
তারা উল্লেখ করেন, এমন আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক পার্থক্যগুলোকে গঠনমূলকভাবে সমাধান করা সম্ভব, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের ‘মাননীয়’ সম্বোধন না করার অনুরোধ এবং তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এই সভার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে উঠে এসেছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও সংলাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



